Unlimited PS Actions, graphics, videos & courses! Unlimited asset downloads! From $16.50/m
  1. Design & Illustration
  2. Drawing

নারী ও পুরুষের বিভিন্ন ধরণের দৈহিক গড়ন কিভাবে আঁকবেন

by
Read Time:17 minsLanguages:

Bengali (বাংলা) translation by Syeda Nur-E-Royhan (you can also view the original English article)

গত মাসে আমরা কিভাবে বিভিন্ন ধরণের অভিব্যক্তি ও ইমোটিকন আঁকা যায় তা শিখেছি। এই টিউটোরিয়ালে আমি আপনাদের দেখাবো নারী ও পুরুষ উভয়ের দেহের গড়নের সাধারণ কিছু ধরন আঁকার দরকারি কলাকৌশল।  আমরা কিছু সরল আকৃতি ব্যবহার করে তার উপরে হাত বুলিয়ে বিভিন্ন ধরণের দেহের গড়ন আঁকবো। এসব আকৃতির মধ্যে রয়েছে চতুর্ভুজ, ত্রিভুজ এবং বিষম চতুর্ভুজ। আমরা ছয়টি নারী দেহের গড়ন দিয়ে শুরু করবো এবং তারপর ছয়টি পুরুষ দেহের গড়ন নিয়ে আলোচনা করবো।


ধাপ ১: দেহের ভিত্তি: উচ্চতা এবং কাঁধের প্রস্থ

দেহের ধরণ আঁকা শুরু করার আগে আমরা একটি ভিত্তি তৈরি করবো প্রথমে যাতে করে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সেখানে পরিপূর্ণ দেহ আঁকা সম্ভব হয়।

মাথা আঁকা থেকে শুরু করুন। একটি সরল ডিম্বাকৃতিতে চোয়ালের চারপাশে সামান্য খাঁজ রাখুন যাতে এটির সীমা আরও ভালোভাবে নির্দিষ্ট করা যায়। ইলাস্ট্রেটরের একটা দারুণ ব্যাপার হচ্ছে আপনি এখানে অ্যাংকর পয়েন্ট যোগ করতে পারবেন। কাজেই আপনি চোয়ালের সীমার উপরে যদি দুইটি যোগ করে দেন তাহলে সেগুলোকে কিছুটা ভিতরের দিকে থেকে দিলেই চোয়ালের খাঁজ নির্ধারিত হয়ে যাবে।  

এখন এই মাথাটিকে ৮ বার ডুপ্লিকেট করুন এবং সেগুলোকে আগের মাথাটির নিচে সরল রেখা বরাবর স্থাপন করুন। দেখুন! আপনার চরিত্রের উচ্চতা পেয়ে গিয়েছেন। সাধারণত, মানুষের মাথা তার দেহের ৮ ভাগের এক ভাগ (মাথা বাদে বাকি অংশের)। কখনও কখনও পায়ের পাতা বাদ দিলে সাত ভাগের এক ভাগ। শেষেরটি (যেখানে পায়ের পাতা থাকে) বেশি বিরক্তিকর। মনে করুন চরিত্রটি লাফাচ্ছে এবং তার পায়ের পাতা নিচের দিকে তাক করা আছে। সেক্ষেত্রে আপনি পুরো মাথাসহ হিসাব করে তার উচ্চতা নির্ধারণ করবেন। কিন্তু সে যদি পায়ের পাতা মাটিতে রেখে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে মাথার দৈর্ঘ্য অর্ধেক বাদ দিয়ে উচ্চতা নির্ধারণ করবেন।

একটা সরল রেখা নিয়ে কাজ করার চাইতে উপরের দ্বিতীয় মাথাটি (ঘাড়ের জায়গা) দুইবার ডুপ্লিকেট করুন এবং সেটিকে দ্বিতীয় মাথাটির যে কোন এক পাশে স্থাপন করুন।এটি কাঁধের প্রস্থ নির্ধারণ করবে। তবে কোথা থেকে শুরু করতে সেই বিষয়টি সহজ করতে দুই পাশের মাথা দুইটি এমনভাবে নিচে নামিয়ে আনুন যাতে সেগুলোর উপরের কিনারা দ্বিতীয় মাথার মাঝ বরাবর আসে (দরকার হলে এটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করতে রেখা টেনে নিন)।  এর ফলে শুধুমাত্র কাঁধের উচ্চতা এবং প্রস্থ নির্ধারণ করা গিয়েছে তা নয় বরং কাঁধের যেখানে বাহু সংযুক্ত থাকে সেখানকার বাঁক আমাদের ব্যবহৃত মাথার আকৃতি থেকে পাওয়া গিয়েছে।

শেষ করার জন্য আমরা পাঁজরের খাঁচা তৈরি করার জন্য একটি ত্রিভুজ আঁকবো। আমাদের তৈরি কাঁধের প্রস্থরেখা ব্যবহার করে পঞ্চম মাথার মাঝামাঝি এসে মিলিত হয় এমন কোণাকুণি করে দুইটি রেখা আঁকুন। আমরা আমাদের পাঁজরের খাঁচা পেয়ে যাবো। 


ধাপ ২: দেহের ভিত্তি: বাহু, পা এবং হাত

পাঁজরের খাচার কোণাকুণি রেখাগুলো ব্যবহার করে আপনি বাহুর সঠিক দৈর্ঘ্য খুঁজে বের করতে পারবেন। কাজেই পাঁজরের খাঁচার রেখার যে কোন একটির উপর আরেকটি রেখা আঁকুন এবং উপরের বিন্দুটিকে কাঁধের বাঁকের সাথে যুক্ত করে দিন। এক পাশে শেষ হয়ে গেলে অন্য পাশেই একই কাজ করুন। এখন আপনি বাহুর দৈর্ঘ্য পেয়ে গিয়েছেন (হাতের পাতাসহ নয়)।

মজার বিষয় হচ্ছে এই একই রেখা ব্যবহার করে আপনাকে উরুর দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে হবে। কাজেই বাহুর রেখা ডুপ্লিকেট করে উরু দুটি সংযুক্ত করে দিন। কোথা থেকে শুরু হবে এগুলো তা বিচার করতে হলে চতুর্থ মাথাটি দুই ভাগে বিভক্ত করুন এবং উরুর রেখাগুলো যুক্ত হওয়ার শেষ মাথার সাথে মাঝখানের ওই রেখাটি যুক্ত করে দিন। এই রেখাগুলো ডুপ্লিকেট করুন এবং উরুর রেখার নিচের মাথার সাথে যুক্ত করে দিন। যেহেতু এগুলো বাইরের দিকে বের হয়ে থাকে ফলে পায়ের নিচের অংশের জন্য খুব বেশি কাজে লাগবে না। আমাদের দরকার আরও খাড়া রেখা। তবে নিম্নমুখী রেখাগুলো খাড়া রেখার দৈর্ঘ্য সম্পর্কে ধারণা দিবে। কাজেই উপরের মাথা থেকে নিচের মাথা পর্যন্ত একটি খাড়া রেখা আঁকুন যেটি নিম্নমুখী রেখার দৈর্ঘ্যের সমান হবে। এর পর নিম্নমুখী রেখাগুলো মুছে ফেলুন!

হাত ও পায়ের পাতা আঁকার বিষয়ে পরামর্শ: হাতের পাতার দৈর্ঘ্য প্রায় মুখমণ্ডলের সমান। একই কোথা পায়ের পাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হাত সাধারণত পায়ের আঙ্গুল বাদে পায়ের যে দৈর্ঘ্য তার সমান। কাজেই আপনি যদি যে কোন একটি মাথার মধ্য দিয়ে একই উচ্চতার সরল রেখা আঁকেন এবং সেগুলোকে বাহুর রেখার সাথে জুড়ে দেন তাহলে আপনি হাতের জন্য একটি ভালো ভিত্তি তৈরি করতে পারবেন। যেহেতু এই ভিত্তিতে পায়ের পাতা সমতলভাবে ভূমিতে রাখা আছে কাজেই পায়ের নিচের অংশের রেখায় এগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই কাজ করা হয়ে গেলে এখন আমরা দেহের গড়ন তৈরি করে ফেলতে পারি।


ধাপ ৩: হালকা পাতলা গড়নের নারী

আমি বাহু এবং পায়ের দিকে খুব বেশি সময় দিবো না বরং দেহের উপরের অংশের দিকেই লক্ষ্য রাখবো। কারণ মূলত এই অংশ দেখেই দেহের গড়ন বুঝা যায়। যেহেতু এই দৈহিক গড়নের সবচাইতে কম মাংসপেশী রয়েছে কাজেই এটিকে আঁকতে হলে তীক্ষ্ণ কিনারাসহ আকৃতি দরকার হবে। এতে করে দেহের হাড়গুলো আরও স্পষ্ট দেখা যাবে। নিতম্ব ও পাঁজরের খাঁচা/ বক্ষদেশ আঁকতে সাহায্য করার জন্য আমরা দুইটি সরু আনুভূমিকভাবে স্থাপিত আয়তক্ষেত্র ব্যবহার করবো। এরপর আনুভূমিক চতুর্ভুজ দুটির মাঝখানে খাড়াভাবে একটি অপেক্ষাকৃত চওড়া ও লম্বা আয়তক্ষেত্র আঁকবো (স্ক্রিনশট দেখুন)। এটি আঁকা শেষ হলে আমরা এটিকে দেহের ভিত্তির মধ্যে খাপে খাপে বসিয়ে দিবো। নিচের আয়তক্ষেত্রের নিচের কিনারাটি উরুসন্ধিকে স্পর্শ করবে। আর উপরের আয়তক্ষেত্রের উপরের সীমা কাঁধের মাঝখান দিয়ে চলে যাবে। এখন বক্ষদেশ এবং নিতম্বের প্রস্থের একটি আনুমানিক উচ্চতা জানা গেছে। মাঝখানের আয়তক্ষেত্রটি পেটের ছবি আঁকতে সাহায্য করবে।

আপনি আয়তক্ষেত্রসহ দেহের ভিত্তিটিকে ডুপ্লিকেট করে লেয়ারে পরিণত করতে পারেন। এরপর ওপাসিটি কমিয়ে দিন যাতে করে তার উপরে দেহের একটা খসড়া চিত্র আঁকতে পারেন। এটি খসড়া করে করা হবে যাতে পরবর্তীতে আপনি যখন এই দৈহিক গড়নের একটা চূড়ান্ত ছবি আঁকবেন তখন এটার উপর দিয়েই আঁকতে পারবেন।

আয়তক্ষেত্র এবং দেহের ভিত্তির উপরে আঁকার সময় বেশ কিছু বিষয় আপনাকে সাহায্য করতে পারে। নিতম্ব সূচালো/ধারালো হালকা গড়নের দৈহিক কাঠামোতে পাঁজরের খাঁচা বেশ স্পষ্ট থাকেআপনি যদি আরও বিশদভাবে আঁকতে চান তাহলে স্তনের নিচে তিনটি ছোট রেখা এঁকে পাঁজরের হাড় নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন। নিতম্বের মতোই কাঁধের দিক্তাও তীক্ষ্ণ হবে। এমনকি কনুই আর হাঁটুর ক্ষেত্রেও তাই। নইলে হালকা পাতলা গড়নের মানুষের আকর্ষণীয় স্টোন থাকাটা বেশ দুর্লভ ব্যাপার। কাজেই এই বিষয়টি মাথায় রেখে স্তনের বাইরের সীমা বক্ষদেশের বাইরের সীমার মধ্যে রাখুন।


ধাপ ৪: খেলোয়াড়সুলভ দৈহিক গড়নের নারী

এই ধরণের দৈহিক গড়নের নারীর ছবি আঁকতে গেলে আমরা পাঁজরের খাঁচা নির্দিষ্ট করার ভিত্তি তৈরি করতে ত্রিভুজাকৃতি আবারও ব্যাবহার করবো। খুব কম দৈহিক গড়নের ক্ষেত্রেই এটি দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয়।  খেলোয়াড়সুলভ দৈহিক গড়নের নারীর দিকে তাকালে দেখতে পাবেন তাদের কাঁধের প্রস্থের তুলনায় নিতম্ব অনেক সরু। এর কারণ হচ্ছে তাদের বাহু এবং কাঁধে মাংসপেশী তৈরি হচ্ছে। ফলে তা আরও প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে। মূলত, আপনি সাধারণত কোমর এবং নিতম্বের যেখানে বাঁক খুঁজে পাবেন, এই ক্ষেত্রে তার চাইতে উপরে শুরু হয়। এটি পাঁজরের খাচার ঠিক নিচ থেকে শুরু হয় এবং কোমরের রেখা নির্দিষ্ট করার জন্য বেঁকে নেমে আসার বদলে এটি সরলরেখার মতো নিচে নেমে আসে। কাজেই সাধারণত যেখানে নারীর দেহ আঁকতে গেলে গোলাকার, বাঁকা, মসৃণ রেখা আঁকতে হয় সেখানে খেলোয়াড়সুলভ দৈহিক গড়নের ক্ষেত্রে আমরা আরও তীক্ষ্ণ রেখা ব্যবহার করবো।


ধাপ ৫: সবল দেহের নারী

এই দৈহিক গড়নের জন্য আমরা বিষমবাহু চতুর্ভুজ ব্যবহার করবো (স্ক্রিনশট দেখুন)। একদম উপরেরটি আঁকার মধ্য দিয়ে শুরু করুন। নিচের সীমানা রেখাটি উপরের চাইতে ছোট করে ডুপ্লিকেট করে ফেলুন। আনুভূমিকভাবে এটিকে উল্টে ডুপ্লিকেট অংশটি প্রথমটির নিচে স্থাপন করুন। এই দুটিকে সিলেক্ট করার পর এই কাজটি করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। যেমন সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নের ক্ষেত্রে কাঁধের প্রস্থ নিতম্বের সমান হবে এবং কোমর কম চওড়া হলেও খুব বেশি চোখে পড়ার মতো ছোট হবে না। আগের দুইটি দৈহিক গড়নের চাইতে এটি ভিন্ন হবে। এক্ষেত্রে স্তনের বাইরের পরিসীমা পাঁজরের খাঁচার পরিসীমাকে স্পর্শ করবে। ভিতরের থেকে এটি আঁকা হবে না। আরেকটি বিষয় এখানে ভিন্ন হবে। তা হল আমরা এখানে কোন সূচালো কিনারা বা একদম সোজা রেখা আঁকবো না। কারণ সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নের ক্ষেত্রে মাংসপেশি বেশ মসৃণ হয়।

আপনি আপনার রেফারেন্স ডুপ্লিকেট করে এর উপরে নতুন করে পরিচ্ছন্ন ছবি আঁকার আগে এই দৈহিক গড়নটিকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে আরেকটি কাজ করতে পারেন। কোমরটিকে অন্যান্য দৈহিক গড়নের চাইতে লম্বা করুন। কাজেই সম্পূর্ণ দৈহিক কাঠামোটিকে সিলেক্ট করে উপরের দিকে টেনে ধরুন (এটি চমৎকার কাজে দিবে কারণ আপনি এটিকে এত বেশি টেনে লম্বা করবেন না যাতে দেহের আনুপাতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়)। এছাড়া আপনি চাইলে উপরের দেহের অংশটুকু নিচের থেকে আলাদা করে নিজে নিজে কিছুটা দৈর্ঘ্য যোগ করতে পারেন।


ধাপ ৬: পিয়ারের মতো দৈহিক গড়নের নারী

পিয়ারের ছবি আঁকা বেশ সহজ। তবে আপনার যদি এটি ঠিকভাবে আঁকতে সমস্যা হয় তাহলে স্টকে রাখা ইমেজগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এই দৈহিক গড়নটি এঁকে বেশ মজা পাবেন। কারণ এটি অন্যান্যগুলো থেকে খুব স্পষ্টভাবেই আলাদা। পিয়ারটি এঁকে কঙ্কালের উপরে স্থাপন করার পর (পিয়ারের উপরের অংশটুকু কাঁধ বা কলারবোনের উচ্চতার বরাবর হতে হবে) দেখবেন যে আপনি আগে যে পাঁজরের খাঁচাটি এঁকেছিলেন সেটির থেকে পিয়ারের উপরের অংশটুকু অনেক পাতলা হবে। এতে কোন সমস্যা নেই। এই আকৃতিগুলোকে আমরা ব্যবহার করছি পুরো প্রক্রিয়াতে আমাদের সাহায্য করার জন্য। আপনি দৈহিক গড়নটির খসড়া আঁকার সময় বুকের অংশটুকু পিয়ারের উপরের অংশের সমান পাতলা করবেন না বা আগে আঁকা পাঁজরের খাঁচার প্রস্থের সমান চওড়া করবেন না। বরং কঙ্কালের পাঁজরের খাঁচা এবং পিয়ারের উপরের অংশের পরিসীমার মাঝামাঝি অংশ নির্ধারণ করে নিন। তবে পিয়ারের নিচের অংশের পরিসীমা যেমন আছে ঠিক তেমনি অনুসরণ করুন। এই দৈহিক গড়নে নিতম্বের প্রস্থ কাঁধের চাইতে চওড়া হয়। সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নের মতো এখানেও স্তনের বাইরের সীমা বুকের রেখাকে স্পর্শ করবে।

আগের দৈহিক গড়নের চাইতে এটির আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে কোমরের অঙ্ঘসের মধ্যে বক্ররেখা দিয়ে পেট আঁকতে হবে। এই দৈহিক গড়নের একটা খসড়া আঁকা হয়ে গেলে এটিকে ডুপ্লিকেট করে পরিচ্ছন্নভাবে তৈরি করে ফেলুন আবারও। প্রয়োজন হলে সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নের মতোই এক্ষেত্রেও কোমরেও কিছুটা বাড়তি দৈর্ঘ্য যোগ করতে পারেন।


ধাপ ৭: গিটার/ আওয়ারগ্লাস গড়নের নারী

এখানে আমরা গিটার ব্যবহার করে এই দৈহিক গড়নটি আঁকতে পারবো। এটিকে আওয়ারগ্লাস কাঠামোও বলা হয়। আপনার গিটার আঁকতে অসুবিধা হলে ৮ নাম্বার চিত্রটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে আমি ৮ নাম্বার চিত্রটি রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করছি না কারণ কোমরের রেখা আঁকার জন্য একদম নিখুঁত আকৃতি পাওয়া যায় গিটারের চিত্রে। কাজেই একবার গিটার বা উপরের ও নিচের বৃত্তের মাঝে ফাঁকা জায়গা রেখে (কোমর আঁকার জন্য) ৮ নাম্বার চিত্রটি আঁকা হয়ে গেলে কঙ্কালের উপর এই দৈহিক গড়নটি বসাতে চাইলে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।  পিয়ার বা সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক কাঠামোর চাইতে এটি ভিন্ন। যেমন গিটারে কোমর ছোট হয়। কিন্তু এটি আঁকার জন্য খুব বাঁকানো রেখা ব্যবহার করতে হয়। আপনি চাইলে এটিকে আরও বাঁকাতে পারবেন। অপেক্ষাকৃত ছোট কোমর আঁকার ফলে স্তন ও নিতম্ব ভরপুর মনে হবে। গিটার ফিগারের কাঁধ এবং নিতম্বের প্রস্থ একদম এক হয় এবং স্তনের বাইরের পরিসীমা বুকের রেখাকে ছাড়িয়ে যায়। যেহেতু এটি একটি বাঁকসম্পন্ন ফিগার কাজেই প্রতিটি রেখা গোলাকৃতির এবং মসৃণ হতে হবে। মাংসপেশি খুব বেশি প্রকট হওয়া যাবে না। আবার পিয়ার আকারের দৈহিক গড়নের মতো এখানেও কিছুটা পেতের চিহ্ন হিসেবে রেখা আঁকতে হবে।


ধাপ ৮: ভরাট দৈহিক গড়নের নারী

এই দৈহিক গড়নটি আঁকতে হলে আমরা সামঞ্জস্যপূর্ণ দেহ এবং গিটার গড়নের দেহ তৈরি করতে আমরা বিষমবাহু ত্রিভুজ আঁকবো। আপনি কাঠামোর উপর আকৃতি দুইটি স্থাপন করার পর (স্ক্রিনশট দেখুন) গড়নটিকে ধীরে ধীরে রূপ দিন। গিটার ফিগারের মতোই কাঁধ আর নিতম্বের প্রস্থ এক হবে। স্তনের বাইরের পরিসীমা বুকের পরিসীমাকে ছাড়িয়ে যাবে এবং নিচের অংশ বেশ গোলাকার ও মসৃণ হবে।  এরপর, কোমর লম্বা করতে হবে এবং কোমরের সাথে নিচের অংশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আরেকটি বক্ররেখা তৈরি করতে হবে (নিচের অনিয়মিত চতুর্ভুজের উপরের কিনারা)। এতে করে কোমরের চর্বি, ভরাট নিতম্ব এবং গোলাকার পেট স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।

পেটের রেখাগুলো স্পষ্ট করে আঁকুন যাতে সেগুলো কোমর/ নিতম্ব/ উরুর কাছাকাছি থাকে। নারীর ছবি আঁকা আপাতত এখানেই শেষ। এখন চলুন পুরুষের ছবি আঁকি।


ধাপ ৯: কৃশকায় গড়নের পুরুষ

নারীর দৈহিক গড়নের বেশির ভাগ বৈশিষ্ট্য পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে মোটামুটি সব ধরণের পুরুষের দেহ আঁকার জন্য ত্রিভুজ ব্যবহার করতে হয়। যদিও আমরা রেখা এবং বাঁকগুলো অনেকটাই মসৃণ করে দিবো তারপরেও সেগুলো সোজা/সূচালো থাকবে। এ কারণেই আমরা ত্রিভুজের পাশাপাশি চতুর্ভুজ এবং আয়তক্ষেত্র ব্যবহার করবো।

কৃশকায় দৈহিক গড়নের জন্য আমরা কঙ্কাল আঁকতে ব্যবহৃত ত্রিভুজ ব্যবহার করবো। এর উপরে আমরা কিছু আয়তক্ষেত্র এবং চতুর্ভুজ ব্যবহার করবো। ত্রিভুজের উপরের অংশ কাঁধ বরাবর হতে হবে। আর নিচের বিন্দুটি উরুসন্ধি বরাবর হবে। এখন চলুন চতুর্ভুজ কোথায় স্থাপন করতে হবে তা শিখে নেই। ত্রিভুজের উপরের রেখার সমান প্রস্থের একটি চতুর্ভুজ আঁকুন (শিফট+অলটার চেপে ধরুন যাতে করে চতুর্ভুজটি নিখুঁত হয়)। চতুর্ভুজটি ডুপ্লিকেট করুন এবং উপরেরটির ঠিক নিচে স্থাপন করুন। এরপর চতুর্ভুজের প্রস্থের সমান চওড়া এবং তার অর্ধেক উচ্চতার সমান লম্বা একটি আয়তক্ষেত্র আঁকুন। কাজ শেষ হয়ে গেলে মাঝের চতুর্ভুজটি মুছে ফেলুন। এরপর উপরের চতুর্ভুজ এবং নিচের আয়তক্ষেত্র সিলেক্ট করুন। এবার চতুর্ভুজের উপরের রেখার সাথে ত্রুভুজের উপরের রেখা মিলিয়ে কঙ্কালের উপর স্থাপন করুন।

এই চতুর্ভুজটি বুকের প্রস্থ নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। আর ত্রিভুজের সাহায্যে নিতম্বের প্রস্থ নির্ধারণ করতে পারবেন। এরপর পাঁজরের খাঁচা এবং কোমর আঁকার জন্য ত্রিভুজ ব্যবহার করতে হবে। কৃশকায় দৈহিক গড়নের নারীর ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে তেমনি এই দৈহিক গড়নের ক্ষেত্রেও সবগুলো কিনারা ধারালো এবং সূচালো হতে হবে। কোমর থেকে পাঁজরের খাঁচার অস্তিত্ব আলাদা করতে হলে আপনি চাইলে পাঁজরের খাঁচার নিচের কিনারা স্পষ্ট করতে একটি ছোট্ট খাঁজ আঁকতে পারেন। ত্রিভুজের রেখাগুলোর সাহায্যে পাঁজরের খাঁচা এবং কোমরের প্রস্থ নির্ধারণ করা যাবে। তবে ত্রিভুজের সাহায্যে আঁকা নিতম্বের রেখার সাথে সংযুক্ত করতে এগুলোকে বাইরের দিকে বাঁকিয়ে আনুন। 

যেহেতু আমরা কৃশকায় দৈহিক গড়ন আঁকছি, কাজেই আমরা চাইলে কিছু জায়গা স্পষ্ট করে আঁকতে পারি। যেমন চতুর্ভুজের নিচের রেখায় অবস্থিত স্টারনাম। স্টারনাম আঁকার জন্য উল্টা করে "V" আঁকতে পারেন। তলপেট থেকে উরুসন্ধি পর্যন্ত সংযোগ স্পষ্ট করতে আপনি এখানে V আকৃতি আঁকার জন্য ত্রিভুজাকৃতি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি আরও কিছু বৈশিষ্ট্য যোগ করতে চান তাহলে বুকের ঠিক নিচে আরও তিনটি ছোট রেখা আঁকতে পারেন (চতুর্ভুজের নিচের রেখার নিচে)। এতে করে পাঁজরের হাড় দেখা যাবে।


ধাপ ১০: পেশিবহুল দৈহিক গড়নের পুরুষ

পেশিবহুল দৈহিক গড়নের জন্য আমরা আবারও ত্রিভুজ ব্যবহার করবো (পুরুষের সব ধরণের দৈহিক গড়নের ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করতে হবে) এবং দুইটি আয়তক্ষেত্র তৈরি করবো। আপনি আগের ধাপে কৃশকায় দৈহিক গড়নের জন্য তৈরি ত্রিভুজ এখানে ব্যবহার করতে পারেন। পেশিবহুল দৈহিক গড়নে ব্যবহারের জন্য তৈরি আয়তক্ষেত্রটিকে ডুপ্লিকেট করার পর যে কোন কোণা ধরে এটিকে উল্টে দিন যাতে তা আনুভূমিক না হয়ে স্থাপিত হয়।  ত্রিভুজের নিচের বিন্দু ব্যবহার করে আয়তখেত্রের নিচের রেখা কোথায় বসবে তা নির্ধারণ করুন এবং সেটির উপরে মাঝখানে স্থাপন করুন। কাজ শেষ হয়ে গেলে আয়তক্ষেত্রটি ডুপ্লিকেট করুন এবং আনুভূমিকভাবে উল্টে নিন। এরপর আপনার লম্বভাবে স্থাপিত আয়তখেত্রের ঠিক মাঝখানে এটি স্থাপন করুন (এর ফলে একটি "+" চিহ্ন তৈরি হবে)।

ত্রিভুজের উপরের অংশ আপনাকে বক্ষঃস্থল এবং পাঁজরের খাঁচার বহিঃসীমা আঁকতে সাহায্য করবে। আনুভূমিক আয়তক্ষেত্রটি চতুর্ভুজাকৃতির পেট আঁকতে সাহায্য করবে (এই আয়তক্ষেত্রের নিচের রেখা থেকে নিতম্ব শুরু হবে)। আর উলম্ব আয়তক্ষেত্রটি অ্যাবের অবস্থান নির্দেশ করবে।

আর একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। তা হল বাহুর সাথে কাঁধের সংযোগস্থল উপরের দিকে উঠিয়ে দিতে হবে। তলপেট থেকে উরুসন্ধি পর্যন্ত V আকৃতির জায়গাটি নিতম্বের সাথে প্রায় যুক্ত থাকে। এর ফলে পেশিবহুল পেট স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠে। এরপর বক্ষঃস্থল স্পষ্ট করে তুলতে কিছু সোজা রেখা আঁকা যায়। ফলে কাটা কাটা ভাব আসে।


ধাপ ১১: খেলোয়াড়সুলভ দৈহিক গড়নের পুরুষ

খেলোয়াড়সুলভ দৈহিক গড়ন একদম পেশিবহুল দৈহিক গড়নের মতোই। কাজেই পেশিবহুল দৈহিক গড়নটি ডুপ্লিকেট করুন এবং অ্যাবস/সিক্স প্যাকের বহিঃসীমা মুছে ফেলুন। এই দৈহিক গড়ন আঁকা শেষ করার জন্য কাঁধের কিছু বাঁক কমিয়ে ফেলুন যাতে পেশির উপস্থিতি কমে যায়। আপনি যদি দেখেন যে পাঁজরের খাঁচা/বক্ষঃস্থল খুব বেশি বড়ো মনে হচ্ছে তাহলে এই রেখাগুলোকে কিছুটা ভিতরের দিকে নিয়ে এসে পাতলা করে ফেলতে পারবেন।


ধাপ ১২: সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নের পুরুষ

এখানে আবার আমরা কঙ্কাল থেকে শুরু করবো। কাজেই শুরুতেই পুরুষের সব ধরণের দৈহিক গড়নের মতোই ত্রিভুজটিকে স্থাপন করতে হবে। এরপর আগের ধাপে আমরা সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নের নারী আঁকতে ব্যবহার করেছি এমন একটি আকৃতি ব্যবহার করতে হবে। নিচের বিষমবাহুর চতুর্ভুজটি ডুপ্লিকেট করুন এমনভাবে স্থাপন করুন যাতে নিচের কিনারা ত্রিভুজের নিচের বিন্দু বরাবর থাকে। আমার কাছে এই দৈহিক গড়ন আঁকা সবচাইতে সহজ মনে হয়। কারণ ত্রিভুজটি বক্ষস্থল, পাঁজরের খাঁচা এবং কোমরের পরিসীমার একদম সমান হয় এবং বিষমবাহুর চতুর্ভুজটির পরিসীমা অনুসরণ করে নিতম্বের আঁকা শুরু করা যায়। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই দৈহিক গড়নে তলপেট/ উরুসন্ধিতে অবস্থিত V আকারের জায়গাটি বেশ স্পষ্ট। তবে অ্যাবগুলো স্পষ্ট নয় এবং বক্ষস্থলের স্পষ্টতা কমিয়ে আনতে হবে কারণ এটিকে অপেক্ষাকৃত কোমল দেখাতে হবে।


ধাপ ১৩: সুষম দৈহিক গড়নের পুরুষ

সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নটি ডুপ্লিকেট করুন। এখন আমরা কৃশকায় দৈহিক গড়নের জন্য যে আয়তক্ষেত্রটি একেছিলাম সেটি ডুপ্লিকেট করুন। এমনভাবে স্থাপন করুন যাতে আয়তখেত্রের নিচের রেখা নিতম্বের শুরুর বিন্দু বরাবর থাকে। এখানে শুধুমাত্র কোমরের বহিঃসীমা পরিবর্তন করতে হবে। সাথে সাথেই নিতম্বের সাথে সংযুক্ত করা বা উরু আঁকার জন্য নিচের দিকে নেমে আসার পরিবর্তে আমরা বাইরের দিকে খানিকটা বাঁকানো রেখা এঁকে এটিকে আবার বাঁকিয়ে ভিতরের দিকে নিয়ে এসে নিতম্বের সাথে সংযুক্ত করবো।  এর ফলে পেট ভরাট মনে হবে। সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈহিক গড়নের জন্য তৈরি V রেখাটি মুছে ফেলুন এবং লম্বভাবে আঁকা রেখা দিয়ে বক্ষঃস্থল আঁকার পরিবর্তে বক্ষস্থলের নিচের কিনারায় নির্দিষ্ট করে এমনভাবে আনুভূমিক রেখা আঁকবো। আপনি চাইলে এগুলোকে সামান্য বাঁকিয়ে ফেলতে পারেন। এতে করে এই জায়গা গুলো আরও ভরাট মনে হবে।


ধাপ ১৪: ভরাট দৈহিক গড়নের পুরুষ

এখানে আমরা সুষম দৈহিক গড়ন দিয়ে শুরু করতে পারি। এটিকে ডুপ্লিকেট করে কাঁধ থেকে কাজ করতে শুরু করুন। এখন পর্যন্ত আমরা এগুলোকে খুব বেশি পরিবর্তন করিনি। এক্ষেত্রে আমরা ঘাড় এবং কাঁধের সংযোগস্থল চিহ্নিত করে এমন খাঁজগুলো মুছে ফেলবো এবং একটা সরল রেখায় এগুলোকে সংযুক্ত করে ফেলবো। এরপর বক্ষস্থলের রেখা আঁকতে হবে। সুষম দৈহিক গড়নের জন্য যা এঁকেছিলেন সেগুলো সিলেক্ট করুন এবং পুরুত্ত বাড়ানোর জন্য সেগুলোকে কিছুটা নিচের দিকে নামিয়ে আনুন।

এরপর, এই দৈহিক গড়ন আঁকা শেষ করার জন্য আমরা পেটের আকৃতি তৈরি করে ফেলবো। উপবৃত্তের সাহায্যে আপনি এই কাজটি করতে পারেন। উপরের বাঁকটি বক্ষঃস্থলকে দৃঢ় করবে, আবার নিচের বাঁকটি উরুর শুরুর জায়গা বরাবর হতে হবে। এরপর, বাইরের রেখা নিতম্ব এবং কাঁধের প্রস্থের চাইতে কিছুটা চওড়া হবে। ভরাট দৈহিক গড়নের পুরুষের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। নিতম্ব এবং কাঁধের চাইতে পেট বড়ো হবে।


উপসংহার

আশা করি আপনার পরবর্তী কাজে এই পাঠগুলো সাহায্য করতে পারবে। যেহেতু এর মধ্যে আপনি বিভিন্ন ধরণের দৈহিক গড়ন আঁকতে শিখে গিয়েছেন কাজেই চেষ্টা করুন এইসব আকৃতিকে চলমান রূপ দিতে। লাইন অফ অ্যাকশন এবং টু ক্যান টেকনিক সংক্রান্ত টিউটোরিয়ালগুলো দেখে নিন। সৃষ্টিশীলতার জয় হোক।

One subscription.
Unlimited Downloads.
Get unlimited downloads