Unlimited PS Actions, graphics, videos & courses! Unlimited asset downloads! From $16.50/m
Advertisement
  1. Design & Illustration
  2. Drawing

হিউম্যান এনাটমি ফাণ্ডামেন্টালঃ কিভাবে হাত আঁকবেন

by
Difficulty:BeginnerLength:LongLanguages:
This post is part of a series called Human Anatomy Fundamentals.
Human Anatomy Fundamentals: Mastering Facial Expressions
Human Anatomy Fundamentals: How to Draw Feet

Bengali (বাংলা) translation by Shakila Humaira (you can also view the original English article)

Final product image
What You'll Be Creating

শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে হাত আঁকা অনেকের কাছেই বেশ কঠিন বলে মনে করা হয়। আমাদের সবারই গল্প আছে, প্রথম দিকে, আমরা আমাদের চরিত্রগুলোকে তাদের পিঠের পিছনে বা তাদের পকেটে হাত ঢুকিয়ে রেখে দিতাম, এবং যতটা সম্ভব হাত-পা-এর কাজ এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করতাম।  অন্যদিকে, হাত ও পা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ব্যবহৃত সবচেয়ে সহজ ও দর্শনীয় বস্তু। মাত্র একটি আনুষঙ্গিক উপাদান, যেমন একটি ছোট আয়না ব্যবহার করে আমরা সমস্ত কোণ থেকে হাতের গঠন ও আকৃতি দেখতে পারি। মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই অঙ্গটি সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আঁকাঃ কারণ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই যারা হাত আঁকতে পারদর্শী না তাঁদের ক্ষেত্রে মূল ফিগারের তুলনায় ছোটবড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই টিউটোরিয়ালে আমরা হাতের সম্পূর্ণ অ্যানাটমির রহস্যমোচন করবো। যার ফলে, যখন আপনি একটি হাত আঁকতে যাবেন, তখন যাতে আপনি এটাকে সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন, এবং অঙ্গটি সঠিক ফর্মে তৈরি করতে পারেন।

আমি আঙ্গুলের জন্য নিম্নোক্ত সংক্ষিপ্ত শব্দগুলো ব্যবহার করেছি:

  • Th = বৃদ্ধাঙ্গুল
  • FF = শাহাদাত আঙ্গুল
  • MF = মধ্যমা আঙ্গুল
  • RF = অনামিকা আঙ্গুল
  • LF = কনিষ্ঠাঙ্গুল

একটি হাতের বেসিক গঠন

এখানে হাতের হাড়ের কাঠামো দেখানো হলো (বাঁয়ে)। এখানে নীল রঙ্গের আটটি কারপাল হাড়, বেগুনী রঙ্গের পাঁচটি মেটাকারপাল হাড়, এবং গোলাপি রঙের ১৪টি ফ্যালাঞ্জিস হাড় দেখা যাচ্ছে।

যেহেতু অনেক হাড় একেবারেই নড়াচড়া করতে পারে না, তাই আমরা হাতের মূল কাঠামো এগুলোর মাধ্যমে সহজেই তৈরি করতে পারি: ডান দিকের ডায়াগ্রামে যেসব জিনিষ দেখানো হয়েছে তা আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, আঙুলের প্রকৃত ভিত্তি, জয়েন্টের যে স্থান আঙ্গুলের গ্রন্থির সাথে মিলিত হয়েছে, সেগুলো ত্বকের উপরিভাগে মাংসের ভাঁজের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থিত থাকে। এটা আসলে বাঁকানো হাত আঁকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যা আমরা পরের ধাপেই দেখবো।

উপরের দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী, হাতের স্কেচ আঁকার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, হাতের তালু থেকে আঁকতে শুরু করা। একটি সমতল হাতের বেসিক আকৃতি অনেক ধরণের হতে পারে (অনেকটা স্টেক বা মাংসের ফালির মত, গোলাকার, চারকোণা অথবা ট্র্যাপিজয়েডের মত হতে পারে)। এর কোণগুলো গোলাকার থাকবে, যেগুলোতে তারপর আঙ্গুল যুক্ত হবে:

যদি আঙ্গুল আঁকা আপনার কাছে কঠিন মনে হয়, তাহলে এগুলোকে তিনটি সিলিন্ডার হিসেবে আঁকতে শুরু করুন। বিভিন্ন দিক থেকে হাতের আঙ্গুল আঁকার চেয়ে বিভিন্ন কোণ থেকে সিলিণ্ডার আঁকা বেশ সহজ।  একটির উপর আরেকটি সিলিণ্ডার রাখা অবস্থায় সিলিন্ডারের কাঠামোটি কেমন দেখায় সেদিকে খেয়াল করুন, আঙ্গুল বাঁকা করা অবস্থায় আপনাকে ঠিক এরকম ভাঁজ তৈরি করতে হবে।

যা খুব গুরুত্বপূর্ণঃ আঙুলের জয়েন্টগুলো কিন্তু পাশাপাশি সমতল লাইনে থাকবে না, কিন্তু কিছুটা বক্রতার সাথে পাশাপাশি থাকবে:

একইসাথে, আঙুলগুলো একেবারে সোজা হবে না  বরং মধ্যমা ও অনামিকার মধ্যিখানে কিছুটা বক্রভাবে অবস্থান করবে।  এগুলো  দেখেও আপনি প্রাণবন্ত ড্রয়িং করতে পারবেন:

আঙুলের নখের কথা একেবারেই ভুলে যাবেন না। এগুলো আঁকা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ না, তবে খুব কাছ থেকে আঙ্গুল দেখার সময় এগুলো না দিলে ভালো দেখাবে না। কিন্তু সচরাচর হাতের আঙ্গুল কিভাবে আঁকতে হবে, সেদিকে লক্ষ্য না করে বরং অনুপাতের দিকে লক্ষ্য রেখে আকলে ভালো ফল পাবেন। হাতের নখের বিষয়ে লক্ষণীয় কিছু বিষয় নিচে দেয়া হলোঃ

  1. আঙুলের নখ উপরের গিরার অর্ধাংশ থেকে শুরু হয়। 
  2. যেই অংশে আঙুলের মাংস থেকে আলাদা হয়ে যায়, সেই অংশটি বিভিন্ন রকম হতে পারে। কিছু মানুষের নখ একেবারে আঙুলের আগা পর্যন্ত হয়। আবার কারও কারও আঙুলের আগা থেকে অনেক নিচে থাকে (ডট রেখা পর্যন্ত), সে ক্ষেত্রে তাঁদের হাতের নখ দৈর্ঘ্যের তুলনার বেশী প্রশস্ত হয়ে থাকে। 
  3. হাতের নখ একেবারে সমতল হয় না, ছাদের টাইলের মত কিছুটা বাঁকানো হয়ে থাকে যার বক্রতা অনেক বেশী বা খুব কম বিভিন্ন রকম হতে পারে। আপনার হাতের দিকে লক্ষ্য করে দেখুন, আঙুলের নখের বক্রতা একটি অপরটি থেকে অনেক বেশী আলাদা - কিন্তু ভাগ্যিস, আঁকার সময় একেবারে নিখুঁত না হলেও চলে। 

অনুপাত

এখন, আমাদের বেস ইউনিট হিসেবে (FF)  এর দৈর্ঘ্যকে (আপাত) দৈর্ঘ্য গ্রহণ করে, মোট অনুপাতটিকে মোটামুটিভাবে নিচের মত করে লিখতে পারি:

  1. বৃদ্ধাঙ্গুল এবং শাহাদাত আঙুলের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুপাত হচ্ছে = ১.৫।
  2. শাহাদাত আঙ্গুলি ও অনামিকার মধ্যে অনুপাত হচ্ছে = ১। মধ্যমা আঙ্গুলি মোট দূরত্বে কোনও প্রভাব না রেখেই নিকটবর্তী হতে পারে।
  3. অনামিকা ও কনিষ্ঠার মধ্যে সর্বাধিক অনুপাত হচ্ছে = ১
  4. বৃদ্ধাঙ্গুলি থেকে কনিষ্ঠা পর্যন্ত সর্বোচ্চ কোণ হচ্ছে ৯০ ডিগ্রী, বৃদ্ধাঙ্গুলির শেষের গিরা থেকে সম্পূর্ণ প্রসারিত কনিষ্ঠা একই বরাবর অবস্থান করে।

আমি মোটামুটিভাবে বলেছি, কারণ এটা একেক জনের জন্য একেক রকম হতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে অনেক বেশিই হয়, কিন্তু মনে রাখবেন কাগজে আকাঁর সময় এই আদর্শ অনুপাত থেকে বিচ্যুতি সর্বদাই ভুল মনে হতে পারে। তাই সন্দেহ হলে, এই অনুপাতটিই সব সময় সঠিক দেখাবে।

বিবরণ

হাতের মৌলিক আকৃতি বেশ চ্যালেঞ্জিং বিষয়, অন্যটি হচ্ছে হাতের ভাঁজ ও লাইনের বিবরণ।  এমন কেউ আছে কি যে কিনা হাত আঁকতে গিয়ে এই লাইনগুলোর ক্ষেত্রে একটু আধটু ভুল করে নি? চলুন, এবার হাতে কিছু রেখা ও পরিমাপের বিবরণ সম্পর্কে জানা যাকঃ


  1. কব্জি থেকে উপরের দিকের কাল্পনিক রেখা বৃদ্ধাঙ্গুলিকে অন্যান্য আঙ্গুল থেকে আলাদা করে।  এই ছোট্ট কাটা লাইনটি কব্জি এবং হাতের সংযোগস্থল চিহ্নিত করে থাকে।
  2. উপরের মত করে আঙ্গুলগুলো যখন মিলিত অবস্থায় থাকে, তখন বৃদ্ধাঙ্গুলিটি হাতের তালুর দিকে ভাঁজ করা অবস্থাতে থাকে এবং কিছুটা লুকিয়ে থাকে। 
  3. অনেক সময় শাহাদাত ও অনামিকা মধ্যমার মতোই লম্বা হতে পারে।
  4. আঙুলের ভাঁজ যা গিঁটের উপর থাকে তা উপবৃত্তাকার অথবা প্রথম বন্ধনীর মত হতে পারে, কিন্তু হাতটি যখন উপরের মত সমতলভাবে থাকে তখন এগুলো আর দেখা যায় না (যদি না কারও হাতের গিঁটগুলো মোটা হয়, বিশেষ করে কর্মঠ হাতের ক্ষেত্রে এমন হয়ে থাকে) যা অনেকটা টোলের মত আঁকা হয়।
  5. পিছন দিকের আঙুলের গিটগুলো উপবৃত্তের মত দেখা যায়, কিন্তু আঙ্গুল বাঁকানো হলে এগুলো মিলিয়ে যায়।  তালুর দিকে এগুলো সমান্তরাল লাইনের মত দেখায়, কিন্তু নিচের দিকের গিট, উপরের গিঁটের চেয়ে বেশী দৃশ্যমান হয়ে থাকে- সাধারনত উপরের দিকের গিঁটের জন্য আপনি দুইটি লাইন আঁকতে পারবেন না।
  6. পিছন দিক থেকে, আঙুলের লাইন হাতের তালু পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, ফলে তালুর দিক থেকে আঙ্গুল দেখতে লম্বা মনে হয়।
    ভিতরের দিকে লাইনগুলো ছোট মনে হয়, কারণ তালুর উপরিভাগ চিহ্নিত থাকে, তাই হাতের তালুর দিক থেকে আঙ্গুলগুলো ছোট মনে হয়।
  7. আঙুলের শেষের দিকের লাইনগুলো হচ্ছে আনুভূমিক টানা দাগ যা উভয়পাশেই বিদ্যমান। উভয়দিকেই এগুলো মধ্যমার থেকে নিচের দিকে ধাবমান।

খেয়াল করুন, উপরের ডায়াগ্রামে, যদিও আঙুলের নখ আঁকা হয়নি কিন্তু তবুও এটাকে দেখতে সঠিকই মনে হচ্ছে (যা প্রয়োজনের তুলনায় লাইনগুলোকে বেশ স্পষ্টতই ফুটিয়ে তুলছে)।  আপনার হাতটি যত কম বয়সী হবে, হাতের লাইন এবং অন্যান্য বিবরণ তত কম দৃশ্যমান হবে, অন্যথায় আপনার হাতটি বুড়ো মানুষের হাতের মত দেখাবে। 

আমি উপরে হাতের রেখাগুলোর উল্লেখ করি নি, তাই এগুলো নিচে ভালোভাবে লক্ষ্য করুন:

  1. হাতের তালুর যেই রেখাগুলো সবচেয়ে বেশী দেখা যায় তা হচ্ছেঃ তথাকথিত, হার্ট লাইন, হেড লাইন এবং লাইফ লাইন, হাতকে সংকুচিত করে কাপের মত বানালে এই রেখাগুলো বরাবর ত্বক ভাঁজ হয়ে যায়। আপনার হাতের স্টাইল যদি খুব বেশী বাস্তবিক না হয় তবে এই রেখাত্রয় ছাড়া অন্য রেখাগুলো আঁকার দরকার নেই, তাহলে ডিজাইনটি অতিরিক্ত মনে হবে। 
  2. লাইফ লাইনের সঙ্গে বৃদ্ধাঙ্গুলির সীমাকে গুলিয়ে ফেলবেন না, যা বেশ কিছু কোণ থেকে দৃশ্যমান হয়, যেমন ডান পাশের ছবিতে দেখা যাচ্ছে। লাইফ লাইন বৃদ্ধাঙ্গুলীর সীমানার সাথে প্রায় সমকেন্দ্রিক, কিন্তু হাতের তালুর কি পরিমাণ উচ্চতায় এটা তৈরি হয়, তাও খেয়াল করুন – আসলে FF এর (সত্যিকার) অনুপাতে।
  3. পার্শ্ব থেকে প্রতিটি আঙুলের মূলে যেই ফোলাভাব তৈরি হয় সেগুলো কিছুটা বাঁকা স্ফীত রেখা হিসেবে প্রদর্শিত হয়। 
  4. এই ভাঁজ করা লাইনগুলো আঙুলের অর্ধেক আবৃত করে রাখে। এগুলো আঙুলের ভাঁজ হিসেবে দেখা হয়।
  5. আঙ্গুল প্রসারিত অবস্থাতে একটি ছোট্ট ফোলা ভাব দেখা যায়, কিন্তু আঙ্গুল বাঁকানো হলে সেটা অদৃশ্য হয়ে যায়।

এখন, হাত প্রসারিত অবস্থায় পার্শ্ব থেকে দেখলে আমরা কি দেখবো?

  1. বাইরের দিক থেকে, কব্জির লাইন তালুর মধ্যখানে কিছুটা খাঁজ কেটে থাকে, তাই এই দুটির মধ্যে পার্থক্য একটি ছোট্ট ফোলাভাব দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
  2. হাতের নিচটি ভিতরের দিক থেকে বাইরের দিকে অপেক্ষাকৃত সমতল মনে হয়, যদিও বৃদ্ধাঙ্গুলির ভিতটি এখনোও দৃশ্যমান।
  3. বাইরের দিক থেকে , অনামিকার শেষ গিরা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে কারণ কনিষ্ঠা বেশ নিচে অবস্থান করে।
  4. ভিতরের দিকে মধ্যমার কিছু অংশ দেখা যেতে পারে আবার নাও পারে, এটা নির্ভর করে শাহাদাত আঙ্গুলির দৈর্ঘ্যের উপর।
  5. ভিতরের দিকে, থাম্ব বেসের কারণে কব্জির লাইনটি ঢেকে থাকে, তাই দুটির মাঝে পরিবর্তনের চেয়ে ফোলাভাব অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও মনে রাখবেন, বাইরের দিকে হাতের তালুতে একটি নতুন কন্ট্যুর লাইন দেখা যায়। এটা কব্জি থেকে শুরু হয়, এবং হাত ঘুরানোর সাথে সাথে কনিষ্ঠা পর্যন্ত  গিয়ে শেষ হয় যতক্ষন না বৃদ্ধাঙ্গুলের বেসকে ঢেকে রাখেঃ

নড়াচড়ার ব্যাপ্তি

বিস্তারিত বিবরণে এটা দিয়ে অনবরত নড়াচড়া বোঝানো হয়। শুধুমাত্র বিশেষ অবস্থায় হাতের ব্যবহার নয় (যেমন একটি মগ ধরে রাখা, টাইপ করা) একইসাথে, ভাব প্রকাশ করতে হাতের নড়াচড়া, যেমন কথা বলতে বলতে অথবা আবেগ প্রকাশ করতে নড়াচড়াকে বোঝানো হচ্ছে। তাহলে আঙুলের নড়াচড়া ভালোভাবে বুঝতে পারলেই হাত সুন্দর করে আঁকা সম্ভব হবে, এতে কোনও সন্দেহ নেই।

বৃদ্ধাঙ্গুল এবং আঙ্গুল

চলুন, এবার বৃদ্ধাঙ্গুল থেকে শুরু করি, যা নিজে নিজেই কাজ করতে সক্ষম।  এটার মূল কাঠামো এবং নড়াচড়ার কেন্দ্র হচ্ছে হাতের একেবারে গোঁড়ার দিকে যেখানে এটা কব্জির সঙ্গে মিলে গেছে।

  1. প্রাকৃতিকভাবে রিল্যাক্সড অবস্থানে বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং বাকি হাতের মাঝখানে কিছু জায়গা খালি থাকে।
  2. বৃদ্ধাঙ্গুল ভাঁজ করা অবস্থায় কনিষ্ঠার গোঁড়া পর্যন্ত ছুঁতে পারে, কিন্তু অনেক বেশী জোর প্রয়োগ করতে হয়, যার ফলে খুব দ্রুত ব্যথা শুরু হতে পারে।
  3. বৃদ্ধাঙ্গুলি হাতের তালুর সমপরিমাণ প্রশস্ত করা সম্ভব, কিন্তু এখানেও জোর দেয়া লাগে এবং ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।

অন্য চারটি আঙ্গুল সামান্য পার্শ্বাভিমুখী এবং একটি অন্যটির দিকে সমান্তরালভাবে অগ্রসরমান। এই আঙ্গুলগুলোও একটি অন্যটির প্রান্তদেশ ছুঁতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে কাছের আঙুলের উপর তার কিছু না কিছু প্রভাব পড়ে; যেমন আপনার মাঝের আঙ্গুল বাঁকা করতে চেষ্টা করলে বাকিগুলোর কি হয়, তা লক্ষ্য করে দেখুন। শুধুমাত্র বৃদ্ধাঙ্গুলিটিকেই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নাড়ানো যায়।

যখন হাতের মুষ্টি বন্ধ হতে থাকে, তখন সবগুলো আঙ্গুল আপনিতেই মুড়িয়ে কাপের আকৃতি ধারণ করে, যেন এটা একটা বড় বলকে ধরে আছে। এটা যেন ঠিক (এখান দেখানো লাল) বলটি যা মুষ্টিবদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে আকৃতিতেও ছোট এবং শক্ত হয়ে আসে:

(ডানদিকে) যখন কোনও হাত সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়, আঙ্গুলগুলো নমনীয়তার উপর নির্ভর করে সোজা হয় অথবা পিছনদিকে কিছুটা বাঁকা হয়ে যায়। কারো কারো আঙ্গুল উল্টোদিকে চাপ দিয়ে ৯০º পর্যন্ত বাঁকানো সম্ভব।

সম্পূর্ণ মুষ্টিবদ্ধ হাতের বিস্তারিত বিবরণ:

  1. সম্পূর্ণ গুটানো আঙুলের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাঁজ মাঝে একটি ক্রস চিহ্ন তৈরি করে।
  2. দ্বিতীয় ভাঁজটিকে আঙুলের মাঝ বরাবর একটি এক্সটেনশনের মত মনে হয়।
  3. আঙুলের কিছু অংশ বৃদ্ধাঙ্গুলির মাঝখানের চামড়ার অংশ দিয়ে ঢেকে থাকে, এটা দিয়ে বোঝা যায় যে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলির গঠনটিই বহির্মুখী। আপনি চাইলে আপনার শাহাদাত আঙ্গুলি বৃদ্ধাঙ্গুলির উপর এনে মুড়িয়ে রাখতে পারেন, এটা গঠনতন্ত্র অনুসারে সম্ভব হলেও প্রাকৃতিকভাবে হাতের মুঠো তৈরি করার উপায় নয়।
  4. মধ্যমার গিট সবচেয়ে বেশী বাইরের দিকে বের হয়ে থাকে এবং অন্যান্য গিঁট গুলো এর নিচে থাকে, তাই এখানে যেভাবে দেখানো হচ্ছে তাতে বোঝা যায় সমান্তরাল আঙ্গুলগুলো বাইরের দিক থেকে বেশী দৃশ্যমান হয়, ভিতরের দিক থেকে নয়।
  5. ১ম এবং ৩য় ভাঁজ মিলে আবার একটি ক্রস তৈরি করছে।
  6. বৃদ্ধাঙ্গুলিটি মুড়িয়ে আছে তাই এর শেষের অংশটি বেশ ছোট দেখাচ্ছে।
  7. আঙ্গুলের ভাঁজ এই অংশে কিছুটা বাইরে বেরিয়ে আছে।
  8. যখন আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ হয় তখন, আঙুলের গিঁটগুলো বাইরের দিকে প্রসারিত হয় এবং, "প্রথম গিঁট" গুলো দৃশ্যমান হয়।

সম্পূর্ণ হাত

হাত যখন রিলাক্স অবস্থায় থাকে, আঙ্গুলগুলো কিছুটা বাঁকা হয়ে থাকে – স্বাভাবিক অবস্থায় মধ্যাকর্ষনের কারণে হাতের আঙ্গুল কিছুটা বাঁকা হয়ে থাকে। এই অবস্থায় শাহাদাত আঙ্গুলিটিই সবচেয়ে সোজা হয়ে থাকে এবং বাকিগুলো ক্রমান্বয়ে বাঁকা হয়ে যায়, কনিষ্ঠাঙ্গুলিটি সবচেয়ে বাঁকা হয়ে থাকে। সাইড থেকে, আঙুলের ক্রমানুসারে শাহাদাত এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির মাঝে দুই তিনটি আঙুলের আগা বের হয়ে থাকে।

কনিষ্ঠা আঙ্গুলিটি সব আঙ্গুল থেকে আলাদা করে ক্রমান্বয়ে অন্যান্য আঙ্গুল দেখানো – এই হচ্ছে প্রকৃত হাত আঁকার আরেকটি উপায়।  অন্য দিকে, FF এবং MF, অথবা MF এবং RF, প্রায়ই একটি অপরটির সঙ্গে জুড়ে থাকবে আর অন্য দুটি হালকা থাকবে। এর ফলে হাতের চেহারা আরও জীবন্ত হয়ে উঠবে। হাল্কাভাবে আঙ্গুল মোড়ানো অবস্থায় RF-LF এর জোড়ও দেখা যায়।

যেহেতু হাতের আঙ্গুলগুলো সব সমান নয়, তাই এগুলো সর্বদাই একটি ক্রমানুসারে দেখা যায়। যখন কোনও কিছু ধরা হয়, তখন মধ্যমাই (১) উপাদানটিকে সবচেয়ে বেশী আঁকড়ে থাকে, অন্যদিকে কনিষ্ঠা (২) সবচেয়ে কম দেখা যায়।

যখন কলমের মত কোনও কিছু ধরা হয়, মধ্যমা, শাহাদাত ও কনিষ্ঠা তালুর পিছনদিকে মুড়িয়ে থাকে। যদি কখনও বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত আঙ্গুলি দিয়ে লিখতে হয় (একটি পেন্সিল নিয়ে এটা পরীক্ষা করতে পারেন)  তখন যতবেশী চাপ দেয়া হয়, মধ্যমা ততই অংশগ্রহণ করতে এগিয়ে আসে এবং সোজা করে ধরতে সাহায্য করে। সম্পূর্ণ চাপ দিলে নিচে দেখনো মতে সবগুলো আঙ্গুলই অংশগ্রহণ করে।

এখানে আমরা যেমন দেখছি, হাত এবং কব্জি স্পষ্টতই পরিবর্তন হচ্ছে, এবং প্রত্যেকটি আঙুলের নিজস্ব নড়াচড়া আছে, আর এ কারণেই হাত আঁকা তাঁর পূর্ববর্তী অবস্থা অঙ্কনের উপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল। একারণেই যখন হাতটি কিছুটা দৃশ্যমান হতে থাকে, তাঁর বিপরীত অবস্থার দিকে আমাদের একটি স্বাভাবিক ঝোঁক থাকে, যার ফলে খুব সুচারুভাবে হাত আঁকতে হয় – সতর্কতার সাথে হাতের আঙ্গুল, সমান্তরাল রেখা এবং অন্যান্য শ্রেণীবিন্যাস সাবধানে ফুটিয়ে তুলতে হয়। ফলে, বেশ দৃঢ় এবং আওতাধীন একটি অঙ্গ আঁকা সম্ভব হয়, যা চোখের মতই সহজাত ভাব প্রকাশে সক্ষম। নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রের প্রকাশে হাত কাজে লাগে (যেমন কোনও ব্যক্তির দৃঢ়তা বা অসংলগ্নতা প্রদর্শনে) কিন্তু আপনি হয়তো এই ধরণের অভিব্যক্তির চেয়ে প্রাণবন্ত এবং উচ্ছল হাত আঁকতেই বেশী স্বচ্ছন্দবোধ করে থাকেন। এজন্য আপনি দুটি উপায় অনুসরণ করতে পারেন: আচরণ যুক্ত করুন (কোনও ধরণের আচরণ বা অংগভঙ্গি যুক্ত হাত এমন অবস্থানে রাখুন, যা সচরাচর রাখা হয় না) অথবা প্রাকৃতিক অঙ্গভঙ্গি যুক্ত করুন (মানুষের হাতের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করুন, অতটা সতর্কতার সাথে হাত সচরাচর রাখেন না)। আমি হাতের প্রত্যেকটি অবস্থান এখানে দেখাবো না, কিন্তু নিচে কিছু অপ্রতিভ ও প্রাকৃতিক হাতের গঠনের উদাহরণ দিচ্ছি:

*আলাদা আলাদা ক্ষেত্রের প্রতি লক্ষ্য রাখুন-(শক্তি প্রয়োগের সময়) প্রশিক্ষিত হাতের আঙ্গুল জোর করে হাতের ভারসাম্য ঠিক রাখে, কিন্তু অন্যসময়ে হাতের পেশী এতটা ফুলে থাকে না।

ভিন্নতা

মুখের মতই মানুষের হাতের গঠনও ভিন্ন হয়ে থাকে। পুরুষের হাত নারীদের হাত থেকে আলাদা, ছোটদের হাত বয়স্কদের চেয়ে আলাদা ইত্যাদি। নিচে কিছু শ্রেনীবিভাগ দেয়া হলো, কিন্তু এটা আসলে হাতের প্রকৃতি একজন থেকে আরেকজনের জন্য কতটা ব্যাতিক্রম হতে পারে তার সম্পূর্ণ বিবরণ নয়। এখানে, চরিত্র বললে আরও ভালো শোনাবে। কারণ মানুষের ব্যক্তিত্বের উপরেই তার চরিত্র নির্ভরশীলঃ যেমন, ভদ্র, নরম, শুষ্ক, কাঠখোট্টা, রূঢ় ইত্যাদি স্বভাবের  মানুষ আছে। (অনুশীলনের সময়ে আঁকা হাতগুলো দেখুন)

হাতের আকৃতি

এটা আসলে একটি হাতের আঙ্গুলের অনুপাতের উপর নির্ভরশীলঃ

আঙ্গুলের আকৃতি

এমনকি হাতের আঙ্গুলও সব দেখতে একইরকম নয়!  প্রকৃতি আমাদের সমতল অথবা গোলাকার আঙ্গুল দিয়েছে, কিন্তু আঙ্গুলের বিভিন্ন স্টাইল আসলে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

অনুশীলনের সময়

  • মানুষের হাতের দিকে লক্ষ্য করুন। প্রথমত অ্যানাটমি: কিভাবে ভিন্ন ভিন্ন পজিশন থেকে আঙ্গুলসমূহ দেখায়, কিভাবে বিভিন্ন রেখা দেখা যায় ও পরিবর্তিত হয়, হাতের নড়াচড়ার উপর ভিত্তি করে কিভাবে আকৃতি পরিবর্তন হয়, ইত্যাদি।  দ্বিতীয়ত, ভিন্নতা: কিভাবে পুরুষের হাত নারীদের হাত থেকে ব্যতিক্রম হয়? কিভাবে বয়স ও ওজনের সাথে সাথে  হাতের আকৃতি পরিবর্তিত হয়?  আপনি কি কাউকে তার হাত দেখে চিনতে পারবেন?
  • যেকোনো সোর্স থেকে দ্রুত হাতের এনার্জি স্কেচ তৈরি করুন – তা হতে পারে আপনার, অন্য মানুষের অথবা ছবি দেখে। এগুলো যে একেবারে সঠিক অনুপাতে বা হুবহু একই রকম হতে হবে তা নয়, বরং কি বোঝানো হচ্ছে তাই এখানে মুখ্য।
  • বিভিন্ন অবস্থান থেকে আপনার হাত আঁকুন এবং আয়না ব্যবহার করে বিভিন্ন কোণ থেকে আঁকতে চেষ্টা করুন। সবচেয়ে সহজ ফর্মে আঁকতে চেষ্টা করুন (যেমন প্রথমে স্টিক ফিগার আঁকুন, তারপর গোশত আঁকুন)। এছাড়াও আপনি এনার্জি স্কেচ দিয়ে শুরু করে (সম্পূর্ণ ফিগারটি আগে দেখানো পদ্ধতিতে তৈরি করতে পারেন)। তারপর তা আরও সুচারু করে তুলতে পারেন।  নিচের স্কেচে হালকা স্কেচ লক্ষ্য করলে বুঝবেন কত সাধারণ শেপ ব্যবহার করে প্রতিটি হাত আঁকা হয়েছে।  
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Looking for something to help kick start your next project?
Envato Market has a range of items for sale to help get you started.