1. Design & Illustration
  2. Illustration

মানুষের দৈহিক গঠনতন্ত্রের মৌলিক বিষয়াদি: মুখমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণ

by
Read Time:16 minsLanguages:
This post is part of a series called Human Anatomy Fundamentals.
Human Anatomy Fundamentals: Basics of the Face
Human Anatomy Fundamentals: Mastering Facial Expressions

Bengali (বাংলা) translation by Syeda Nur-E-Royhan (you can also view the original English article)

Final product imageFinal product imageFinal product image
What You'll Be Creating

আমাদের পূর্ববর্তী পাঠে আমরা মৌলিক এবং চেহারা ও এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের আকারের অনুপাতের অভিন্নতা শিখেছি।  এখন আমরা দেখব কিভাবে এটিকে আরও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা যায়: লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য, বয়স, জাতিগত ব্যুতপত্তি এবং অন্যান্য জেনেটিক বৈচিত্র্য।

১। পুরুষ বনাম নারীর চেহারা

দেহের অন্যান্য অংশের মতোই নারী ও পুরুষের লৈঙ্গিক ভিন্নতার কারণে তাদের চেহারার বৈশিষ্ট্য যেমন অনেক ভিন্ন হতে পারে তেমনি উভলিঙ্গ বৈশিষ্ট্যেরও হতে পারে।  এই অধ্যায়ে আগের অংশটুকু নিয়ে শিখবো - নারী ও পুরুষের চেহারার বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা। আপনার চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করে নিন।

নারী ও পুরুষের চেহারার ভিন্নতার প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য: পুরুষের চোয়াল নারীর মসৃণ ও আনত চোয়ালের চাইতে অনেক বেশি  স্পষ্ট ও চতুর্ভুজাকৃতির হয়। মজার বিষয় হচ্ছে এই পার্থক্যগুলো কিছু কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রেও দেখা যায়। যেমন, বিড়াল। পুরুষের চেহারায় অন্যান্য রেখাগুলোতেও একই রকমভাবে কাঠিন্য থাকবে: তাদের ভ্রু বাইরের দিকে চলে আসবে যেখানে নারীর ভ্রু হয় অনেকতা গোলাকার। আবার গালের রেখাও স্পষ্ট হবে।

পুরুষের মাথার চাইতে নারীর মাথার আকৃতি সব মিলে ছোট হয়। আর ঘাড় হয় সরু। ভ্রু হবে পাতলা এবং পরিচ্ছন্ন, আর ঠোঁট হবে পুরু এবং ভিন্ন রঙের। পুরুষের ভ্রু ঘন হয়ে চোখের কাছাকাছি নেমে আসে। পুরুষের শরীরে লোমের আধিক্যের কারণেই  এটি হয়। পুরুষের ঠোঁট পাতলা এবং মুখ চওড়া হয়। পূর্ণবয়স্ক নারীর চোখের পাপড়ি মেকআপ ছাড়াই লম্বা এবং দৃশ্যমান হয়।

প্রোফাইলে দেখতে পাচ্ছি যে নারীর ঘাড় শুধু বেশি সরু তা নয় বরং এটি সামনের দিকে স্পষ্টভাবে ঝুকে থাকে। অন্যদিকে পুরুত্তের কারণে পুরুষের ঘাড় অপেক্ষাকৃত খাড়া মনে হয়। এখানে অ্যাডামস অ্যাপলও স্পষ্ট থাকে। অন্যদিকে নারীর গলায় অ্যাডামস অ্যাপল থাকেই না।

এখন চলুন হাত এবং পায়ের তুলনায় চেহারার অনুপাত দেখে নেই: পুরুষের ক্ষেত্রে পায়ের গোড়ালি এবং হাতের তালু চেহারার প্রস্থের অর্ধেক হয়। পায়ের আঙ্গুলসহ পায়ের পাতা চেহারার চাইতে লম্বা হবে এবং আঙ্গুলের দগা পর্যন্ত হাতের দৈর্ঘ্য চেহারার দৈর্ঘ্যের অন্তত তিন ভাগের চারভাগ হবে। নারীর ক্ষেত্রে প্রস্থ প্রায় একই অনুপাতের হয় তবে চেহারার দৈর্ঘ্যের চাইতে পায়ের পাতা লম্বা হয় এবং হাত ওই একই উচ্চতার চার ভাগের তিনভাগ হয়।

২। চেহারা এবং বয়স 

চেহারার বৈশিষ্ট্য এবং অনুপাত বয়সের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। এর মানে হচ্ছে বয়সের সাথে সাথে পরিবর্তনের রূপরেখা বুঝতে পারলে আপনি যেই বয়সের চরিত্র আঁকতে চান তা পারবেন।  এই অধ্যায়ে সাধারণ কিছু সূত্র দেওয়া হয়েছে। কারণ পরবর্তী পাঠে আমরা আরও খুঁটিনাটি বিষয় জানবো।

কম বয়সী চেহারা

কৈশোরের আগে নারী ও পুরুষের চেহারার বৈশিষ্ট্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। হরমোন কাজ করার সাথে সাথে লৈঙ্গিক ভিন্নতা স্পষ্ট হওয়ার আগে শিশুদের চেহারা এবং দেহে কোন আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে না। তাদের আলাদা করে চেনার উপায় মূলত তাদের পোশাক আর চুলের কাট। 

নবজাতক এবং হাঁটতে শেখা শিশুদের ভ্রূর কোন স্পষ্টতা থাকে না। শুধুমাত্র ম্রিয়মাণ একটি বাঁক দেখা যায়। চোয়ালের হাত স্পষ্ট থাকে না। তাদের গাল হয় গোলাকার (কখনও কখনও ডাবল চিন দেখা যায়)। শিশুদের শরীরের চর্বি তাদের দেহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কৃশকায় শিশুদের তাদের বয়সের তুলনায় বড়ো দেখায়। এই সময় মুখ গহ্বর ছোট এবং কুঞ্চিত থাকে। চোখ বড়ো বড়ো এবং চওড়া হয় কারণ ততদিনে চোখের উপরের পাতা স্পষ্ট হয়ে উঠে না। চোখের মনি পূর্ণ বয়স্ক মানুষের প্রায় সমান থাকে। তবে চোখের চেরা তেমন থাকে না। কাজেই চোখের আইরিস পূর্ণ বয়স্ক মানুষের চাইতে অনেক বড়ো মনে হয়। চোখের মাঝের দূরত্বও অনেক বেশি থাকে। পূর্ণ বয়স্ক অবস্থায় চোখের ভ্রু যতোটুকু গাঢ় হবে তার অর্ধেক ঘনত্ব দেখা যায়। কাজেই একদম ফরসা শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের ভ্রু দেখা নাও যেতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে (পাঁচ বছর থেকে শুরু করে) চেহারার বহিরাবয়ব স্পষ্ট হতে শুরু করে। তারপরেও এগুলো বেশ  কোমল হয়ে থাকে। নাকের হাড় তৈরি হতে থাকে তবে নাকের দগা তখনও ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ফলে নাকের দৈর্ঘ্য ছোট মনে হয়। অন্যদিকে কান দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকে। ফলে এগুলো দেখতে বেশ বড়ো মনে হয়। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের চাইতে শিশুদের চেহারা তাদের মাথার অল্প অংশ জুড়ে থাকে। ঘাড় পাতলা থাকে। অন্তত আগের চাইতে বেশি পাতলা। কারণ শিশুদেহের স্বাভাবিক চর্বি চলে যায় কিন্তু তখনও কোন পেশী গড়ে উঠে না। চোখের ভ্রু তখনও বেশ উঁচু থাকে। ফলে একটা শিশুসুলভ ভাব তৈরি হয়।

কিশোর কিশোরীরা সবদিক থেকেই প্রাপ্ত বয়স এবং শৈশবের মাঝামাঝি থাকে। প্রতিটি বৈশিষ্ট্যতেই বয়ঃপ্রাপ্তির ছাপ পড়ে আবার শিশুসুলভ ভাব পুরোটা চলেও যায় না (বারো থেকে সতের বছ বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের উপর নির্ভর করে এই বৈশিষ্ট্যগুলো। 

এই বয়সে প্রাপ্ত বয়স্কদের সাথে সবচাইতে বড়ো পার্থক্য থাকে চোখের আকারে। চোখ এই সময়ও বড়ো থাকে। এই সময় চোখের ভ্রু ঘন হয়ে যায় এবং চোখের দিকে নেমে আসে। কাজেই চেহারার অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হয়ে যায়। নাক এই সময়ে লম্বা দেখাবে, যদিও তখনও কিছুটা উপরের দিকে উঠে থাকবে। একই সাথে এই সময় নারী ও পুরুষের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে। মনে রাখবেন যে চোখের পাপড়ি মুছে ফেলে কাগজে কলমে আপনি একটি মেয়েকে কম বয়সী দেখাতে পারেন। স্টাইলাইজড ড্রয়িঙের ক্ষেত্রে এগুলোর উপস্থিতি নিমিষেই বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রাপ্ত বয়স্ক চেহারা

আমরা সাধারণত যেই বয়সের মানুষের ছবি আঁকি তা হচ্ছে তরুণ প্রাপ্ত বয়স্করা (আঠারো থেকে ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত)। কারণ পশ্চিমা সংস্কৃতিতে এই বয়সটি সবচাইতে বেশি উপভোগ্য। এই সময়ে বৈশিষ্ট্যগুলো সবচাইতে বেশি স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়: কাটা কাটা নাক, চোখের দৃষ্টির তীব্রতা কমে আসে এবং চোখের পাতা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে পরিপক্বতা আসে। চেহারার খাঁজে হাড়ের উপস্থিতি বুঝা যায় এবং নরম মাংসের বদলে মাংসপেশির উপস্থিতি দেখা যায়। এই সময় নারীর ঠোঁট সবচাইতে বেশি পুরু ও মাংসল থাকে এবং পুরুষের মুখমণ্ডলের লোম সবচাইতে ঘন থাকে। শেইভ করার পরেও ঘন লোমশ পুরুষদের চোয়াল বরাবর গাঢ় ছাপ থেকে যায়।

প্রাপ্ত বয়স পরবর্তী সময়ে (চল্লিশ থেকে ষাট বছর বয়স পর্যন্ত) খুব বেশি নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যায় না। তবে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়: চোখের পাতা ভারী হয়ে যায়, চামড়ার ভাঁজ চোখে পড়ে (সাথে অন্যান্য রেখাও, যেমন মুখের কোণায় নিম্নমুখী ভাঁজ, নাকের দুই পাশে অভিব্যক্তিসুলভ রেখা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নাকের গোঁড়ায় রেখা দেখা যায়।  এই সময় পুরুষের চুলের পরিসীমা কমে আসতে থাকে। এটা তরুণ বয়সেও হতে পারে।

বয়স্ক চেহারা

ষাট বছর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সে এই রেখাগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে।  এই সময় দুশ্চিন্তা বা কুঁচকানো ভ্রূর রেখার সাথে সাথে হাসির রেখাগুলোও স্থায়ী হয়ে বসে যায়।  চোখের নিচে পকেট দেখা দেয়। চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং চোয়াল বরাবর ঝুলতে থাকে। ফলে চোয়াল অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেখায়। নারীর চোখের পাপড়ি এই সময় আর স্পষ্ট থাকে না এবং তার ঠোঁট পাতলা হয়ে যায়। পুরুষের চুলের রেখা বিভিন্ন হারে কমে যায়। চোখের ভ্রু চুলের চাইতে বেশিদিন পর্যন্ত ঘন থাকতে পারে (যদি তা শুরু থেকেই ঘন হয়ে থাকে)। তবে সময়ের সাথে সাথে তা পাতলা হয়ে যায়।
নারীর চেহারা এ সময় নারীসুলভ কোমলতা হারাতে থাকে। আর সত্তরের দশকে চলে আসলে মেনোপজের কারণে হরমোনের নিঃসরণ একদম কমে যায়। ফলে দৃশ্যমান কোন লৈঙ্গিক পার্থক্য আর থাকে না। তবে নারীর চুলের ঘনত্ব খুব অল্পই কমে যায়। অন্যদিকে পুরুষের চুল প্রায় সবই পড়ে যায়।  শিরা-উপশিরা, দাগ, বয়সের ছাপ, এই সবগুলোই চামড়ায় স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়। সেই সাথে ত্বক পাতলা হয়ে যায়। কানের লতি এবং নাকের দগা নিচের দিকে ঝুলে যায়। চোখের আইরিসের রং পাতলা হয়ে যায় এবং ঠোঁটের রংও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ঠোঁট এবং গলায় নতুন নতুন রেখার সৃষ্টি হয়। আর গাল ফাঁপা হয়ে যায়।

৩। স্বতন্ত্র ও জাতিগত বৈচিত্র্য

আমরা জানি যে মানুষের চেহারার চোখ, নাক, কান, মুখ এমনকি আকৃতিও ব্যক্তি বিশেষে অনেক বিভিত্র হয়। দুইটি ভিন্ন মানুষ (অভিন্ন জমজ ছাড়া) কখনোই একদম একই বৈশিষ্ট্যের চেহারার পায় না। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খুব সাধারণ কিছু কৌশল ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যায়। বৈচিত্র্য আনতে, চারিত্রিক ভিন্নতা ফুটিয়ে তুলতে, এবং যে কোন চরিত্র বারবার আঁকার জন্য এই কৌশলগুলো খুব কাজে লাগে।

জাতিগত ব্যুৎপত্তি নির্দেশ করে এমন বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং সেগুলো বাদ না দিয়ে সুন্দর করে এঁকে ফেলতে হবে। গায়ের রং দিয়ে আসলে খুব বেশি পার্থক্য নির্দেশ করা যায় না। আমরা সচেতনভাবে এটি লক্ষ্য করলেও নিচের ছবিতে রঙের উপস্থিতি ছাড়াই কাঠামোগুলোর জাতিগত ব্যুৎপত্তি নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব। চেহারার বৈশিষ্ট্যের আকার ত্বকের রঙের চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখানে।

পৃথিবী জুড়ে চেহারার বৈশিষ্ট্য জানতে হলে এই চার্টে যেভাবে দেখানো হয়েছে তেমন করে প্রতিটি জাতিগত বৈশিষ্ট্য জানতে হবে। এখানে আমি শুধু কিছু বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করবো। বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্য নিয়ে জানবো। শুধুমাত্র কোন নির্দিষ্ট জাতিগত বৈশিষ্ট্য নিখুঁতভাবে আঁকতে জানলেই হবে না।

চেহারার সাধারণ আকৃতি

এই ডায়াগ্রামে বিভিন্ন ধরণের চেহারার আকৃতি দেখানো হয়েছে (বাস্তবে এগুলো আরও সূক্ষ্ম):

  • ডিম্বাকৃতি: উল্টানো ডিমের আকৃতির, চোয়ালের দিকে সরু এবং মাঝামাঝি বিস্তৃত।
  • উপবৃত্ত: প্রস্থে প্রায় সমান লম্বাটে চেহারা। এটি সরু বা চওড়া হবে।
  • ত্রিভুজাকৃতি এবং হৃদয়াকৃতি: সরু চিবুক এবং চওড়া কপালের বৈশিষ্ট্য হিসাব করলে এই দুইটি আকৃতি একই। তবে এর মধ্যে একটিতে সোজা চুলের রেখা দেখা যায় অন্যটিতে পানপাতা আকৃতির খাঁজ থাকে। 
  • গোলাকৃতি: দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে একই সমান হয়। চোয়াল এবং চুলের রেখা হয় গোলাকৃতির।
  • চতুর্ভুজ: দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে সমান। চোয়াল এবং চুলের রেখা চতুর্ভুজাকৃতির।
  • আয়তক্ষেত্র (অথবা লম্বা বা বেলনাকৃতি): চতুর্ভুজের মতোই কিন্তু প্রস্থের চাইতে লম্বা।
  • পঞ্চভুজাকৃতি: আয়তখেত্রের মতোই তবে চিবুক সরু থাকে। ফলে আকৃতি কিছুয়া কৌণিক দেখায়।
  • হীরকাকৃতি: সরু চিবুক এবং কপাল, চেহারার মাঝখানটা সবচাইতে চওড়া।
  • পিয়ার আকৃতির (বা ট্র্যাপিজয়েড আকৃতির): চিবুকের কাছটা সবচাইতে বিস্তৃত এবং কপাল সরু। চোয়ালের হার পুরু।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে মাথার খুলি দেখেই জাতিগত ব্যুৎপত্তি বুঝা যায়। কারণ এটির বিবর্তন নানান ভাবে হয়ে এসেছে। একদিকে চিবুকের হার সরু হয়ে পাতলা একটি চেহারা দেয়। পশ্চিমা চেহারার ধাঁচে একটি খুবই স্বাভাবিক। সূচকের অন্যপাশে চিবুকের হাড় লক্ষণীয়ভাবে পাশে সরে থাকে। ফলে গোলাকার চেহারাকে প্রোফাইল একদম চ্যাপ্টা মনে হয়।

নিচের চাইনিজ চেহারা (এশিয়ান) এবং ইন্ডিয়ান চেহারার (ককেশিয়ান) দুইটি খুলি এবং তাদের অঙ্গসংস্থানবিদ্যার তুলনা করুন। আরও ভালো হয় যদি আপনি সত্যিকারের ছবি বা বাস্তবে তাদের তুলনা করে দেখতে পারেন। খেয়াল করলে বুঝবেন ককেশিয়ান চেহারা অনেক বেশি খাঁজ কাটা আর সেই অনুপাতে এশিয়ান চেহারায় বৈচিত্র্য অনেক কম। অনেকটা হাই এবং লো রিলিফের মতন।

খুলির গভীরতাও ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং তিনটি মূল শ্রেণিতে বিভক্ত। এটা সহজে বুঝা যায় উপর থেকে নিচে মাথার দিকে তাকালে। এই দৃষ্টিকোণটি সচরাচর ব্যবহৃত না হলেও এটি দিয়েও প্রোফাইলে ভিন্নতা বুঝা যায়। নিচে দেখানো হল।

মেজাসেফাল, মধ্যম মানের, চেহারা আঁকা শেখার সময় যে মূল সূত্রগুলো শিখেছিলাম সেটিকে ডিফল্ট অনুপাত হিসেবে ধরে নিতে হবে। এই মৌলিক ডায়াগ্রাম থেকে ব্র্যাচ্যুসেফাল আকৃতির মাথার জন্য কিছুটা অংশ কমিয়ে নিতে হবে। এই আকৃতির মাথাটির প্রস্থ যতোটুকু হয় দৈর্ঘ্যও ততোটুকু হয়। মোট কথায়, এটি গোলাকার হয়। ডলিকোস্ফেলিক আকৃতির মাথার জন্য মূল ডিম্বাকৃতির খুলিতে পিছনের দিকে কিছুটা পুরুত্ত বাড়িয়ে দিন। এটি তুলনামূলকভাবে লম্বা এবং সরু (প্রস্থের তুলনায় লম্বা বেশি)।

খুলির গভীরতা মূলত জনসংখ্যার উপর নির্ভরশীল। এই তিনটি ধরণ জাতিগত ব্যুৎপত্তির তিন শ্রেনিকে নির্দেশ করে না বরং প্রতি শ্রেনিতেই তিন ধরণের খুলির আকার দেখতে পাওয়া যায়।

চোখ

চোখের আকার

জাতিগত ব্যুৎপত্তি চিহ্নিত না করেই কিছু সুপরিচিত চোখের আকার এখানে উল্লেখ করা হল:

আমণ্ড চোখের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাইরের কোণা উপরের দিকে বাঁকানো থাকে। হুডেড বা আবৃত চোখের ক্ষেত্রে চোখের পাতার স্বাভাবিক ভাঁজ চামড়ার পরতের নিচে চাপা পড়ে যায়। এটি জন্মের সময় থেকেই থাজতে পারে বা বয়সের সাথে সাথে তরি হতে পারে। ডিপ সেট বা কোটরাগত চোখের ক্ষেত্রে চোখের পাতার ভাঁজ ভিতরের দিকে ঢুকানো থাকে। ফলে চোখের উপরের পাতা ছায়ার মধ্যে লুকানো থাকে। গোলাকার চোখ স্বাভাবিকের চাইতে বেশি খোলা মনে হয়। এর কারণ হচ্ছে নিচের অংশে বেশি বাঁক থাকে। ঘুমঘুম চোখে চোখের পাতা ঝুঁকে পড়া থাকে। নিচের দিকে ঝুঁকে পড়া চোখে বাইরের কোণা নিচের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে।

আরেকটি চোখের আকার আছে যেটি বিশেষ জাতিভুক্ত: এশিয়ান চোখ

এশিয়ান জাতিগত চোখের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য সনাক্তকারী চিহ্ন হচ্ছে এপিক্যান্থিক ফোল্ড বা ভাঁজ (বা এপিক্যান্থাল ভাঁজ, বা এপিক্যান্থাস)।  এটি হচ্ছে চোখের উপরের পাতার একটি ভাঁজ যা নাক থেকে ভ্রূর ভেতরের দিক পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি চোখের ভিতরের কোণাকে আবৃত করে রাখে। এর ফলে ভিতরের কোণা নিচের দিকে ঝুঁকে আছে মনে হয়। ফলে চোখ আনত মনে হয় (অর্থ্যাৎ আমণ্ড আকৃতির)। ভিতরের কোণা কতোটুকু আবৃত আছে এবং বাইরের কোণায় ভাঁজ কতোখানি স্পষ্ট এই দুইটি ব্যাপারই ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। চোখ বন্ধ থাকলে ভিতরের কোণা লক্ষণীয়ভাবে নিচের দিকে ঝুঁকে থাকে।

এশিয়ান চোখ দুই ধরণের হয়। একটি ডাবল আইলিড বা দ্বিস্তর-বিশিষ্ট চোখের পাতা নামে পরিচিত: এক্ষেত্রে চোখের পাতা পশ্চিমা ধাঁচে ভাঁজ হয়ে থাকে। তবে এটি চোখের পাপড়ির কাছাকাছি থাকে। অন্যটি সিঙ্গল আইলিড বা একস্তর বিশিষ্ট চোখের পাতা নামে পরিচিত। এখানে কনই ভাঁজ নেই (কাজেই "চোখের পাতার রেখা" তৈরির দরকার হয় না)। এখানে শুধুমাত্র চোখের উপর মসৃণ চামড়ার পরত থাকে।

অন্যদিকে অন্যান্য চোখ এশিয়ান চোখের চাইতে বড়ো মনে হয়। তবে এর কারণ হচ্ছে এপিক্যান্থিক ভাঁজের অনুপস্থিতি আর ভিতরের কোণার প্রকট উপস্থিতি। পশ্চিমা সমাজে আমরা খুব সহজেই বলে দেই যে যতো উত্তরে যাবেন ততোই চোখের আকার ছোট হয়ে আসবে। আর ভূমধ্যসাগরের দিকে চোখের আকার বড়ো এবং নারীসুলভ। পশ্চিম এবং উত্তর ইউরোপে চোখের উপর একটি বহির্মুখী ভাঁজ দেখা যায়। এর ফলে চোখ ঝুঁকে পড়া মনে হয়। অন্ততপক্ষে বৃদ্ধ বয়সে এটি লক্ষণীয় হয়। সেই সাথে প্রচুর ভাঁজ দেখা দেয়। অন্যান্য জনগোষ্ঠীতে হয়তো আরও ধীরে ধীরে বৃদ্ধ বয়সের ছাপ পড়বে (সূর্যের রশ্মি ও বাতাসের আধিক্য না থাকলে এশিয়ান ধাঁচের ক্ষেত্রে দেহের ত্বক অনেক বেশি মসৃণ হয় বয়সের তুলনায়)।

মনে রাখবেন যে কিছু নেটিভ আমেরিকান ধরনে এপিক্যান্থিক ভাঁজ দেখা যায় (এটি দেখেই বুঝা যায় যে তারা মূলত এশিয়ান ধাঁচ থেকেই এসেছে)। অন্যদিকে অন্যদের চোখ আরও বেশি পশ্চিমা ধাঁচের হয়ে থাকে। সেখানে বাইরের ভাঁজ অনেক স্পষ্ট হয়।

চোখের রং

চোখ মূলত বাদামী বা নীল রঙের হয়। তবে দুর্লভ রং হিসেবে সবুজ রংও দেখা যায়। প্রতিটি চোখের রঙই হয় এই তিনটি রঙের অথবা এদের মিশ্রনে তৈরি। কখনও কখনও হলুদ বা পিঙ্গল বর্ণের ছটা যুক্ত হয় বাকি দুই রঙের সাথে।

ধূসর হচ্ছে নীলের একটি প্রকারভেদ মাত্র। হালকা ধূসর প্রায় সাদার মতোই দেখায়। অন্যদিকে ধূসরের মধ্যে কিছুটা অন্য রঙের ছিটা থাকে, ফলে দেখতে নীলচে-ধূসর বা সবজে-ধূসর লাগে। নীল রঙের ব্যাপ্তি ফ্যাকাশে থেকে গাঢ় নীল পর্যন্ত হয়। দুর্লভ বেগুনী রঙের চোখ আসলে চোখের লাল শিরা দেখা যায় এমন নীল রঙের চোখ: এই বেগুনী রঙের ছটা দেখতে পাওয়া যায় নীল আর লালের স্তরায়িত সংমিশ্রণের ফলে।

খাঁটি সবুজ রঙের চোখ বেশ দুর্লভ এবং এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায় (যেমন, আইরিশ এবং আফগানিস্তানের পশতু জনগোষ্ঠী)। এটি হ্যাজেল বা সবজে-ধূসরের থেকে আলাদা। নীলচে-সবুজ রঙের চোখ অত্যন্ত দুর্লভ। এখানে নীল এবং সবুজ রঙের ছটা একই সাথে দকেহা যায়। পিউপিলের চারপাশে সবুজ বলয় দেখা যায়।

অ্যাম্বার রঙের চোখ (হালকা বাদামী রঙ না) তৈরি হয় ফ্যাকাশে সবুজ রঙের চোখে হলুদ বা পিঙ্গল বর্ণের ছটার কারণে। হ্যাজেল রঙের চোখ হচ্ছে বাদামী আর সবুজের পাশাপাশি অবস্থানের ফলে তৈরি চোখ। এখানে দুইটি রং পাশাপাশি বলয়ে তৈরি হয়ে একে অপরের সাথে মিশে যায়। বাদামী রঙটিও ফ্যাকাশে থেকে গাঢ় বিভিন্ন রঙে দেখা যায়। কালো রঙের চোখ আসলে নেই। এগুলো আসলে খুব গাঢ় বাদামী। আইরিসে সরাসরি আলো ফেললে বুঝা যায়।

মনে রাখবেন এই টেবিলে শুধুমাত্র মৌলিক কিছু রং দেখানো হয়েছে যেগুলো জেনেটিকালি পাওয়া যায়। সেই সাথে কিছু দুর্লভ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রঙের উপস্থিতি আলোচনা করা হয়েছে (বেগুনী, নীলচে-সবুজ)। এছাড়া আরও অনেক জেনেটিক "স্পেশাল ইফেক্ট" রয়েছে যেগুলোর উপস্থিতি বেশ অনিশ্চিত। এখানে সেগুলো দেখানো হয়নি: যেমন পিউপিল বা আইরিসের চারপাশে বলয়, তিল, ইত্যাদি। এখানে সবচাইতে দুর্লভ অ্যালবিনো রঙের চোখের উল্লেখ করা হয়নি। এটি গোলাপি-লাল রঙের। কারণ যেহেতু এতে কোন রঙের উপস্থিতি নেই কাজেই রক্তের শিরা উপশিরা এটিকে এমন রং দেয়।

নাক

নাকের মৌলিক আকৃতিগুলো নিচে দেখানো হয়েছে। শেষের দুইটি বাদে বাকি সব ধরণের চোখ ককেশিয়ান জনগোষ্ঠীতে দেখা যায় (এর অর্থ হচ্ছে পশ্চিম ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে ইন্ডিয়া পর্যন্ত সব ধরণের মানুষ)। সত্যি কথা বলতে ককেশিয়ান চেহারায় নাক সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কারণ এটি চোখের বেশ সামনে বের হয়ে থাকে। নাকের হাড় এবং গোঁড়া বেশ উঁচু থাকে আর নাকের দুই পাশ ভিতরের দিকে চাপা থাকে। অন্যদিকে, এশিয়ান নাক বেশ ছোট হয় এবং নাকের হাড় থাকে নিচু, উপরের দিকে খুব বেশি উঠানো থাকে না। আফ্রিকান নাকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি চ্যাপ্টা হয় এবং নাকের দুই পাশ ছড়ানো থাকে ও নাকের ডগার সমান্তরাল হয়। এশিয়ান এবং আফ্রিকান নাকের ক্ষেত্রে নাসারন্ধ্র সামনে থেকে দেখা যায়। ককেশিয়ান নাকের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় দেখা গেলেও পাশ থেকে দেখা যায়। 

  • হুকড বা বাঁকানো নাক: এটি দেখতে ভাঙ্গাচোরা
  • ঝুঁকে পড়া চোখ: চোখের কোণা ঝুলে পড়ে নিচের দিকে। এটি বয়স বৃদ্ধির একটি লক্ষণ।
  • ঈগলাকৃতি: এর অর্থ হচ্ছে "ঈগলের মতো"। চোখের আকৃতি ঈগলের ঠোঁটের মতো সূচালো হয়।  আর এখানে কমবেশি স্পষ্ট উত্তল বাঁক থাকে।
  • রোমান: ঈগলের ঠোঁটের মতো হালকা বাঁকসম্পন্ন আকৃতি।
  • গ্রেসিয়ান: কপাল থেকে একদম সোজা নিচে নেমে আসে।
  • বাটন বা বোতাম আকৃতি: গোলাকৃতি এবং ছোট। নাকের দগা উপরের দিকে উঠে থাকে, কিন্তু এতোটাই হালকা যে নাসারন্ধ্র দেখা যায় না। শিশুদের নাকের সংস্করণের আসলে তেমন গুরুত্ব নেই কারণ তাদের নাক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে এরকমই থাকে।
  • উপরের দিকে উল্টানো: ঈগলের ঠোঁটের আকারের উল্টোটি। এই বাঁকটি অবতল।
  • থেঁতলানো বা ভোঁতা আকৃতি: ছোট এবং উপরের দিকে উল্টানো নাক। এশিয়ান ধাঁচে এমনটা প্রায়ই দেখা যায়।
  • ফানেল: এটি বিশেষ করে আফ্রিকান ধাঁচের একটি অংশ। তাই বলে সব ধরণের আফ্রিকান ধাঁচে এটি দেখা যায় না।

ঠোঁট

এখানে ঠোঁটের কিছু সুপরিচিত আকার দেওয়া হল। এগুলো চাইলে স্পষ্ট করে আঁকা যায় বা মেকআপের সাহায্যে নতুন করে তৈরি করা যায়। তবে নারীদের ঠোঁটের রং তুলনামূলকভাবে বেশি রঙিন হয়। পুরুষের মধ্যে ঠোঁটের ধাঁচে বরং একটা পাতলা ভাব থাকে (তাদের ঠোঁট তুলনামূলকভাবে কম মাংসল হয়)। কাজেই তাদের ঠোঁট সহসা চোখে পড়ে না। মনে রাখবেন যে শিশুদের ঠোঁটও পাতলা হয়, রঙের ভিন্নতা কম হয় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় গায়ের রঙের কাছাকাছি রং হয়।

  • প্রাকৃতিক এবং প্রাকৃতিকভাবে সূচালো আকৃতি দুইটি মৌলিক দুইটি আকার (ইউরোকেন্দ্রিক দিক থেকে বিচার করলে)।
  • পাতলা ঠোঁট: উপরের ঠোঁট পাতলা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। তবে এর উল্টোটা হওয়া বেশ দুর্লভ ব্যাপার।
  • কিউপিডস বো: এটি একটি প্রকটভাবে নারীসুলভ আকৃতি।
  • সংযুক্ত-ঠোঁট: উপরের ঠোঁটের চূড়া দুইটি একটি রেখায় মিলে যায়।
  • হুল ফোটানো ঠোঁট: এই মুখের আকৃতি সরু এবং পরিপূর্ণ থাকে। এটি বিশ দশকের দিকে বেশ ফ্যাশনেবল ছিল। এই ঠোঁটের আকৃতি পেতে হলে সাধারণত মেকআপের সাহায্য নিতে হয়।
  • ল্যাপটানো: এই ঠোঁটের আকৃতি বেশ ছড়ানো হয় এবং উপরের ঠোঁটের চূড়া দুইটির মধ্যে বেশ ফাঁক থাকে। এটি চল্লিশের দশকে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
  • গ্ল্যামার: উপরের ঠোঁট নিচের ঠোঁটের চাইতে ভরাট থাকে।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য

কান

যেহেতু সৌন্দর্য শিল্পে গয়না ঝুলানো ছাড়া কানের দিকে কেউ তেমন একটা নজর দেয় না কাজেই চোখ, নাক ও ঠোঁটের মতো কানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রকারভেদ তেমন একটা নেই। কিন্তু তাই বলে কান কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এগুলো ব্যক্তিবিশেষে নানান ধরণের হতে পারে। আমি নিচে শুধুমাত্র সাধারণ কিছু আকৃতি তুলে ধরছি।

বহিঃকর্ণের "C" আকৃতিটি গোলাকার বা চতুর্ভুজাকৃতি বা এমনকি সূচালোও হতে পারে (তাই বলে ভাল্কানের মতো না!) সম্পূর্ণ কানটি সরু হতে পারে। ফলে দেখতে চাপান মনে হবে। অথবা এটি বাইরের দিকে বের হয়ে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে প্রোফাইলে মাথার ছবি দেখলে কানগুলোকে চ্যাপ্টা মনে হবে না। বরং এমনভাবে দেখা যাবে যে কানের বাইরের কিনারা দেখা যাবে। অবশেষে কানের লতি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এটি মুখমণ্ডলের থেকে আলাদা হয়ে বা একসাথে যুক্ত হয়ে থাকে এবং U আকৃতির দেখা যায়। যুক্ত থাকলে দেখে মনে হবে কানের লতিই নেই।

চোখের ভ্রু

চোখের ভ্রূর আকৃতি দুইটি বিষয় দ্বারা নির্ধারিত: এগুলোর সম্পূর্ণ আকৃতি। এবং তাদের বাঁকের উচ্চতা। নারীদের চোখের ভ্রু পাতলা হয়। বিশেষ করে যেহেতু সেগুলো উঠিয়ে ফেলা হয় সৌন্দর্য চর্চার জন্য (এভাবে প্রাকৃতিক আকৃতি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ফেলতে পারবেন)। অন্যদিকে পুরুষের চোখের ভ্রু থাকে ঘন। যেহেতু এগুলোকে প্রাকৃতিকভাবেই বাড়তে দেওয়া হয় কাজেই দেখতে খুব একটা পরিচ্ছন্ন থাকে না। নিচে নারী এবং পুরুষের কিছু মৌলিক আকৃতি উল্লেখ করা হল। নিচু এবং উঁচু বাঁকের পার্থক্যের ফলে সেগুলোকে কেমন দেখায় সেটিও দেখানো হয়েছে।

চুলের রেখা

চুলের রেখাও বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। যদিও সেই সবগুলো নিচের কয়েকটি মৌলিক আকৃতির প্রকারভেদ মাত্র। এগুলো আবার নারী ও পুরুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হয়। পুরুষের মতো নারীর চুলের রেখা এত দ্রুত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় না।

৪। অনুশীলনী

  • সচেতনভাবে চেহারার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলো আলাদা আলাদাভাবে লক্ষ্য করবেন এবং আঁকবেন। এতে করে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলোকে কেমন দেখায় তা জানতে পারবেন এবং বিভিন্ন আকৃতির একটি ছোটখাটো সংরহশালা তৈরি করে ফেলতে পারবেন (আপনি যদি একই আকৃতি বারবার একে থাকেন তাহলে মনের অজান্তেই এভাবে সেই অভ্যাস কাটিয়ে উঠতে পারবেন)।  দিনে একটি করে বৈশিষ্ট্য শিখে নিন: একদিন শুধু চোখ এবং চোখের ভ্রু আঁকুন, এরপরের দিন নাক, তারপর চেহারার খাঁজ, ইত্যাদি আঁকুন।
  • এই সবগুলো মিলে আগের লেসনগুলোর সাথে যুক্ত করে আপনার নিজের মতো করে মৌলিক এবং বিভিত্র সব চেহারা এঁকে ফেলুন।
One subscription.
Unlimited Downloads.
Get unlimited downloads