Unlimited PS Actions, graphics, videos & courses! Unlimited asset downloads! From $16.50/m
  1. Design & Illustration
  2. Drawing

মানুষের দৈহিক গঠনতন্ত্রের মৌলিক বিষয়াদি: শারীরিক অনুপাতের বিশ্লেষণ

by
Read Time:12 minsLanguages:
This post is part of a series called Human Anatomy Fundamentals.
Human Anatomy Fundamentals: Basic Body Proportions
Human Anatomy Fundamentals: Balance and Movement

Bengali (বাংলা) translation by Syeda Nur-E-Royhan (you can also view the original English article)

আমাদের সর্বশেষ সেশনে আমরা মানুষের দেহের মৌলিক ও সাধারণ অনুপাত এবং সন্ধিস্থল সম্পর্কে জেনেছি। সবচাইতে স্পষ্ট পার্থক্য সম্ভবত নারী আর পুরুষের মধ্যে। তবে একজন চিত্রকরের বয়স ও ধরণের সাথে সাথে মানুষের শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কেও জানতে হবে (যতোদিন পর্যন্ত এটি বেড়ে উঠছে)। 


নারী বনাম পুরুষের দৈহিক অনুপাত

নারী ও পুরুষের দৈহিক অনুপাত এতোটাই আলাদা যে এমনকি একটি কঙ্কাল (বা কিছু অংশ) দেখেও সেটির লিঙ্গ বলে দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, উলম্ব অক্ষরেখার দিক থেকে ধরলে কোন বাস্তব পার্থক্য নেই: সন্ধিস্থলগুলো উপরে নিচে ওঠানামা করে না। পার্থক্যগুলো প্রায় সবই আনুভূমিক অক্ষরেখায়, অর্থ্যাৎ দেহের কিছু কিছু অংশের প্রস্থের ক্ষেত্রে। কাজেই আমরা আমাদের মৌলিক কাঠামোগুলোকে কিভাবে নারীসুলভ বা পুরুষসুলভ করে তৈরি করতে পারি? কাঠামোগত দিক থেকে আমরা এখনও কাজ করে যাচ্ছি। মূলত সবচাইতে বড়ো একটি পার্থক্যই রয়েছে। বাকিগুলো ছোটখাটো খুঁটিনাটি মাত্র।

কাঁধ/ নিতম্বের অনুপাত

মূল পার্থক্য হচ্ছে কাঁধের প্রস্থের সাথে নিতম্বের প্রস্থের সম্পর্ক। নারীদের পেলভিক হাড়ের প্রস্থ পুরুষের চাইতে অনেক বেশি হয় সন্তান ধারণ ও প্রসবের সুবিধার জন্য।  এই মুখ্য পার্থক্যটি দেহের অন্যান্য সব জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে। এর অর্থ হচ্ছে নারীদের জন্য নিতম্ব হচ্ছে দেহের সবচাইতে চওড়া অংশ। সেই তুলনায় তাদের কোমর থাকে চিকন। অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে তাদের কাঁধ হচ্ছে সবচাইতে চওড়া অংশ আর কমরের সাথে নিতম্বের প্রস্থের খুব একটা পার্থক্য নেই। সব মিলিয়ে নারীর দেহের আকার পুরুষের তুলনায় অনেকটা আওয়ার গ্লাসের মতো। নিচে দেখানো হয়েছে। 

Female vs male figureFemale vs male figureFemale vs male figure

পরিমাপের ধারণা দিতে হলে (তাই বলে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবেন না কারণ ছায়াশরীরের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবির মাপ সব সময়ই সঠিক পরিমাপের চাইতে বেশি হয়) নিচে দেহের মূল কাঠামোটিতে (মাঝখানে) আমি মাথার পাশ থেকে নির্দেশিকা দিয়ে দিয়েছি। এরপর আবার মুখ্য অক্ষরেখা থেকে এক মাথা সমান দূরত্ব রেখেছি। এই রেখাগুলো দুটি হলুদ বলয় নির্দেশ করে যেখানে কাঠামোটির কাঁধ এবং নিতম্বের হাড় থাকার কথা।

Hips and shoulder widthHips and shoulder widthHips and shoulder width

এই নিরপেক্ষ কাঠামোটিকে নারীসুলভ করতে হলে পেলভিক হাড় চওড়া করতে হবে যাতে নিতম্বের সন্ধিস্থলগুলো হলুদ বলয়ের বাইরের পরিসীমার কাছাকাছি চলে আসে। কাঁধের প্রস্থ কমবেশি হতে পারে তবে সব সময়ই এই বলয়ের মধ্যেই থাকবে। (খেয়াল করে দেখুন এর ফলে পায়ের কী অবস্থা হয়: উরুগুলো নিতম্বের দিক থেকে সরু হয়ে হাঁটুর দিকে চলে যাবে। মনে রাখতে হবে হাঁটুর অবস্থান কিন্তু পরিবর্তন হবে না। পুরুষের পা নারীর পায়ের চাইতে অনেক বেশি খাড়া মনে হয়)।

নিরপেক্ষ কাঠামোটিকে পুরুষালী করতে হলে পেলভিক হাড় সরু রেখে দিবেন কিন্তু কাঁধের সন্ধিস্থল হলুদ বলয়ের ঠিক বাইরে রাখবেন। এখানেও মাপ কমবেশি হতে পারে তবে তা সবসময়ই হলুদ বলয়ের বাইরে থাকাটাই স্বাভাবিক। এখানে দুই লিঙ্গের মানুষ তাদের হাত কিভাবে রাখে সেটিও উপস্থাপন করা হবে। আপনি আগের ছবিতে এবং আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনেও এর প্রমাণ দেখতে পাবেন: নারীর কনুই দেহের কাছাকাছি ধরে রাখে আর বাহু স্বাভাবিকভাবে দেহের বাঁকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঝুলিয়ে রাখা হয়। একজন নারীকে তার দেহের কাছ থেকে হাত সচেতনভাবে দূরে সরিয়ে রাখতে হয়। অন্যদিকে পুরুষের কাঁধ যেহেতু বাইরের দিকে বের হয়ে থাকে ফলে বাহু দেহের কাছ থেকে দূরে ঝুলতে থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে দেহের সংলগ্ন হয়ে থাকে না। 


ছোটখাটো পার্থক্য

কোমরের মাপ এবং কনুই

একজন নারীর কোমরের রেখা তার নাভি বরাবর থাকে কিন্তু একজন পুরুষের নাভি অনেক নিচে থাকে। এর ফলে ধড়ের আকার অপেক্ষাকৃত লম্বা মনে হয়। এটা মনে রাখা জরুরী, আমার শিল্পী জীবনের পরথম দিকে আমি একই দৈর্ঘ্যের ধড় আর একই লেভেলে ট্রাউজারের লাইন আঁকতাম। আর মনে মনে ভাবতাম পুরুষের ছবিগুলো ঠিক মনে হচ্ছে না কেন। সেই সাথে, কোমরের নিচের অংশ বরাবর কনুই আঁকবেন না! কনুইয়ের সন্ধিস্থলের লাইন হিসেবে নাভিকেই ধরতে হবে কারণ আমরা যদি এভাবে পুরুষের ছবি আঁকি যেখানে তাদের কোমর ট্রাউযার যেখান থেকে শুরু হয়েছে সেখানে অবস্থিত তাহলে তাদের কনুই অনেক বেশি উপরে মনে হবে।

The waistThe waistThe waist

বৃত্তাকার বনাম কোণাকৃতির

আমরা এই কঙ্কালের উপর রক্তমাংসের যে দেহ আঁকতে চাচ্ছি সেখানে নারীর ছবি আঁকতে গেলে গোল গোল আকৃতি আর পুরুষের জন্য অপেক্ষাকৃত কোণাকৃতির শেইপ ব্যবহার করা উচিত। এতে করে প্রতিটি দেহের ধরণের সাধারণ প্রতিমূর্তি ফুটে উঠবে। 

সাধারণত নারীর দেহ নরম গোলাকৃতির হয়: স্তন ও নিতম্ব ছাড়াও নারীর দেহের চামড়ার নিচে অপেক্ষাকৃত বেশি চর্বি জমা হয়। পুরুষের দেহ পুরুষালী হলে তা অনেকবেশি কোণাকৃতির এবং তীক্ষ্ণ হয়। এটা অবশ্যই অবস্থাভেদে ভিন্ন হয়। এই কৌশল যে কোন প্রতিস্থিতির প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায়। যেমন কোণাকৃতির শেইপ দিয়ে কৃশকায় নারী আঁকা যায় আবার গোলাকৃতির শেইপ দিয়ে স্থুল দেহের পুরুষ আঁকা সম্ভব।  তারপরেও মনে রাখবেন যে হালকা গড়নের দেহ হলে নারীর পেট কিছুটা বক্র হয় নিতম্ব হয় গোলাকার। অন্যদিকে পুরুষের পেট আর নিতম্ব দুটোই অপেক্ষাকৃত চ্যাপ্টা হয়।

Rounded vs angularRounded vs angularRounded vs angular

নিতম্বের সন্ধিস্থল

একটি ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: নারীর নিতম্বের সন্ধিস্থল পেলভিক হাড়ের বাইরে আঁকুন। এগুলো দেহ থেকে বাইরের দিকে বের হয়ে থাকে ফলে এই বৈশিষ্ট্যটি ধারণ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, পুরুষের নিতম্বের সন্ধিস্থল পেলভিক হাড়ের ভিতরে রাখুন।

The hip jointsThe hip jointsThe hip joints

অন্যান্য খুঁটিনাটি

  • দুই লিঙ্গের ক্ষেত্রেই, হাত আর পায়ের তালু চেহারার প্রস্থের অর্ধেক হয়। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে চেহারার তুলনায় তা লম্বা হয়।
  • নারীর মেরুদণ্ড খানিকটা নমনীয় হয় আর দৃশ্যমানভাবে কিছুটা বেকে থাকে।
  • সবশেষে, পুরুষেরা গড়ে নারীদের চাইতে লম্বা!
Other detailsOther detailsOther details

এইসব কিছু কতোটা গুরুত্বপূর্ণ?

এই বিষয়টি চিত্রের মাধ্যমে বুঝানোর জন্য দেখুন নারীর দেহের আনুপাতিক হিসাব দিয়ে পুরুষের ছবি আঁকলে বা তার উল্টোটা করলে কেমন দেখায়।

Reversed proportionsReversed proportionsReversed proportions

এমনকি লিঙ্গভিত্তিক বাঁধাধরা নিয়ম অনুযায়ী চুল এবং স্তন যোগ করলেও নিতম্ব/ কাঁধের অনুপাতের কারণে দেহগুলো সাভাবিকের তুলনায় অন্যরকম লাগে।

নারী ও পুরুষের দেহ চিহ্নিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও অ্যান্ড্রোজিনাস কাঠামোর হতে পারে। এর মানে হচ্ছে যেই কাঠামোটি কোন নির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্ট্য জোরালোভাবে ধারণ করে না।  তবে যারা দুর্বল শিল্পী তারাই শুধু এমন অ্যান্ড্রোজিনাস দেহ আঁকেন এবং শুধুমাত্র উপরের ছোটখাটো খুঁটিনাটির উপর ভিত্তি করে লিঙ্গ নির্ধারণ করেন। ভবিষ্যতের কোন সেশনে আমরা প্রাথমিক কিছু দৈহিক ধরণ নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা করবো। এই ধরণগুলো কাঠামো এবং মাংসপেশীর বিন্যাসের সম্মিলনের ফলাফল।


অনুপাত এবং বয়স

এই অধ্যায়ে জন্ম থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠার বিভিন্ন পর্যায়ে অনুপাতের পার্থক্যগুলো সম্পর্কে আলোচনা করে। কৈশোরের শেষ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে বেড়ে ওঠার সময়টা চিহ্নিত করা হয়। তবে এখানে কমবেশি হওয়ার সুযোগ রয়েছে কারণ মানুষ একই পরিবারের সদস্য হয়েও অনেকসময় একই হারে বেড়ে উঠে না। সাড়া দুনিয়ার কথা বাদই দিলাম। তবুও, কেউ যদি কোন চরিত্রের বয়স তুলে ধরতে সমস্যার সম্মুখীন হয় তবে সেক্ষেত্রে একটি সাধারণ মডেল খুব কাজে লাগে। আমরা জথা সময়ে এই মডেলটি নিয়ে আরও খুঁটিনাটি বিষয় বিশ্লেষণ করবো।

নবজাতক (০ থেকে ১ মাস)

খেয়াল করে দেখুন এই সময়ে পাগুলো কতো খাটো থাকে: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পজিশনে হাঁটু কাঁধ বরাবর পৌঁছে যাবে। কিন্তু এখানে পা আর হাত প্রায় একই দৈর্ঘ্যের এবং হাঁটু আর কনুই কোন রকম কাছাকাছি আসে। শিশু হিসেবে এই বয়সে আমরা বেশিরভাগ সময় ভ্রূণ অবস্থায় যে পজিশনে ছিলাম সেভাবে থাকি। ২.৫ মাথার সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্যের মধ্যে পা অন্তর্ভুক্ত নয়। শরীরের অন্যান্য সব অংশের তুলনায় নবজাতকের মাথা অস্বাভাবিক রকমের বড়ো মনে হয়।

NewbornNewbornNewborn

শিশু (১ মাস থেকে ১ বছর)

তিন মাসে অনুপাত খুব একটা পরিবর্তন হবে না তবে দেহ লক্ষণীয়ভাবে গোলগাল হয়ে যাবে। আর পায়ের বৃদ্ধির ফলে শিশুর বৃদ্ধি অনেক বেশি ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে হবে। ধরে দাঁড় করিয়ে দিলে (একা একা দাঁড়াতে নাও পারতে পারে) ১০ মাস বয়সী শিশু লম্বায় হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চার সমান দেখায়। তবে তার মধ্যে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্য, যেমন প্রায় অদৃশ্য ঘাড়, প্রকট থাকে।

BabyBabyBaby

হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চা (১ থেকে ৪ বছর বয়সী)

মজার বিষয় হচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় কারও উচ্চতা কতোটুকু হতে পারে তা ২ বছর বয়সে তার উচ্চতাকে দ্বিগুণ করে অনুমান করা সম্ভব। যে কোন ক্ষেত্রেই, হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চারা হচ্ছে আমাদের মধ্যে সোজা হয়ে চলতে পারা মানুষদের মধ্যে সবচাইতে ক্ষুদ্র। তবে এই সময়ও দেহের তুলনায় মাথা অনেক বড়ো (প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যেই আকারের হবে তার কাছাকাছি), পা'দুটো খাটো (সম্পূর্ণ উচ্চতার তিন ভাগের এক ভাগের চাইতে একটু বেশি, যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্কের পা তার উচ্চতার অর্ধেক হয়), সেই সাথে ঘাড়ের অস্তিত্ব ফুটে উঠে।

3-toddler3-toddler3-toddler

শিশু (৫ থেকে ১১ বছর বয়সী)

শৈশবে বেড়ে ওঠা একটা নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। এই ছবিতে এমন একটি মানুষ আঁকা হয়েছে যার বয়স ৭ থেকে ৯ বছর। এই বয়সে বাচ্চাদের কৃশকায় দেখাতে পারে কারণ শিশুদের যে স্বাভাবিক চর্বি থাকে তা এসময় আর থাকে না (এমনকি বয়ঃসন্ধিকালে যদি তাদের ওজন অনেক বেড়ে যায় তাও না)। মনে রাখবেন যে সরু ঘাড় প্রায় আনুভূমিক কাঁধ বরাবর বেড়ে উঠে। এর কারণ হচ্ছে ট্রাপিজিয়াস এবং ঘাড়ের মাংসপেশী তখনও বেড়ে উঠেনি। আমি এটা উল্লেখ করা জরুরী মনে করেছি কারণ একটা শিশুকে সম্পূর্ণরুপে বেড়ে ওঠা কাঁধসহ আঁকলে তা দেখতে কিম্ভূতকিমাকার লাগবে।

ChildChildChild

কিশোর (১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী)

এই পর্যায় পর্যন্ত আমরা ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য  ধরিনি কারণ এর আগ পর্যন্ত লিঙ্গভিত্তিক সত্ত্বা তখনও স্পষ্ট হয় না। আপনি যদি এটা নিয়ে ভাবেন তাহলে দেখবেন যে আমরা ছোট বাচ্চাদের লিঙ্গ জানতে পারি তাদের পোশাক আশাক ও চুলের কাটের কারণে। কিন্তু খালি চোখে এই বয়সে তাদের লিঙ্গ সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকা খুবই স্বাভাবিক। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে জীবনের এমন একটা সময় যখন হরমোন কাজ করা শুরু করে এবং দেহকে পরিণত করে তোলে। নারীদের বয়ঃসন্ধি আগেভাগে ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয়। পুরুষ ৯.৫ বছর থেকে ১৪ বছরের মধ্যে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়। কাঠামোগত দিক থেকে:

  • কোমর এবং নিতম্বের আকারের মধ্যে পার্থক্য বেড়ে যায়। এই সময় যেহেতু পেট, নিতম্ব ও পায়ে চর্বি বৃদ্ধি পেতে পারে কাজেই সম্পূর্ণ দেখে বেড়ে ওঠা নারীর আকৃতি দেখা যাবে।
  • বালকের কাঁধ চওড়া হয়ে যায়।

দুই লিঙ্গের ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যেমন থাকে তার চাইতে মাথা বড়ো থাকে। আর দেহের শেষ প্রান্তগুলো (হাত, পায়ের পাতা, এমনকি বাহু ও পা) শরীরের অন্যান্য অংশের চাইতে দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে। ফলে একটা লিকলিকে ভাব আসতে পারে। আরেকটি কথা, এই ব্যাপারতা পশুপাখিদের মধ্যেও হয়!

বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ হচ্ছে সাবালকত্ব। এই সময়ে আমরা নারী ও পুরুষের যে অনুপাত ব্যাখ্যা করেছিলাম তা স্পষ্ট হয়ে উঠে। এরপর আমাদের পরবর্তী বয়সের বিভাগে যাওয়ার দরকার নেই কারণ এই কাঠামোটি আর পরিবর্তন হয় না। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে একদম বৃদ্ধ বয়সে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। ফলে উচ্চতা কমে যায় এবং দেহ কুঁজো হয়ে যেতে পারে। তখন ঘাড় ছোট দেখায় এবং হাত আরও নিচের দিকে নেমে যায়।

AdolescenceAdolescenceAdolescence

আবারও বলছি, এগুলো আসলে কতোখানি গুরুত্বপূর্ণ?

এখানে চারজন মানুষের রেখাচিত্র দেওয়া হল...

Adult vs child proportionsAdult vs child proportionsAdult vs child proportions

প্রথম দুইটি কাঠামো তাদের আকার অনুযায়ী আনুপাতিকভাবে ঠিক আছে। তৃতীয়টিতে দেখানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কের অনুপাত ব্যবহার করে শিশুদের আঁকতে গেলে কেমন হয়: একটা ছোট্ট বয়স্ক মানুষ! আপনি যদি ছোট্ট পরই বা পিঁপড়া-মানব আঁকতে যান তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু শিশুদের আঁকতে গেলে এমনটা কখনোই করা যাবে না।

এর উল্টোটাও আবার ঠিক: চতুর্থ কাঠামোতে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্য দিয়ে আঁকা হয়েছে। এই আকৃতির একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে সম্পূর্ণই বেমানান লাগবে। তাদের মাথার খুলি যদি এত বড়ো হত, তারপরেও।

মানুষের বৈচিত্র্যের শেষ না থাকলেও একটা নির্দিষ্ট ন্যুনতম উচ্চতা রয়েছে যার থেকে ছোট হলে মানুষকে স্বাভাবিকের চাইতে ভিন্ন লাগে। কৃশকায় নারীরা মূলত নারীরই আনুপাতিক হারে ছোটখাটো রূপ। যদি খুব বেশি খাটো হয় তাহলে তাদের দৈহিক অনুপাতের মধ্যে কিছুটা শিশুসুলভ ভাব থেকে যায়। এর উল্টোটাও ঠিক: খুব বেশি লম্বা মানুষকে লিকলিকে দেখায়, শুধুমাত্র আকারে বড়ো এমন মনে হয় না।

How proportions convey infoHow proportions convey infoHow proportions convey info

এই স্কেচের প্রাথমিক পর্যায় হওয়া সত্ত্বেও আমরা এখানে একটি শক্ত-সমর্থ, লম্বা পুরুষ, একটি ছোটখাটো পূর্ণ বয়স্ক নারী, এবং একটি কিশোর (বা কিশোরী) দেখতে পাচ্ছি। যদি কোন বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য না থাকে আর কিশোর বয়সী বাচ্চাতি যদি নারীটির সমান লম্বা হয় তাহলে আমরা কিভাবে এই তথ্য পেলাম? অনুপাতের মধ্যে প্রচুর তথ্য লুকায়িত থাকে। নতুন কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিল্পী যদি সচেতনভাবে এই কাঠামোগুলো নিয়ে পড়াশুনা করে তাহলে তার জন্য ব্যাপারটা কষ্টসাধ্যই বটে। তবে মনের গহীনে আমরা সবাই এই আনুপাতিক ইঙ্গিতগুলো বুঝতে পারি। এই ছবিতে আপনার অবচেতন মন কোনভাবেই নারীর চওড়া নিতম্ব (পূর্ণ বয়স্কের প্রতীক) এবং কিশোর বয়সী বাচ্চার অপরিণত দেহ না বুঝে থাকবে না।  তার মানে এই না যে আপনি অপরিণত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (যেমন সরু কাঁধ) পূর্ণ বয়স্কদের ছবি আঁকা যাবে না। তবে ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে এটি সন্দেহ ও দ্বিধার সৃষ্টি করতে পারে। আপনি হয়তো খেয়াল করবেন যে আপনার পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির ছবিটি একটু বেখাপ্পা মনে হচ্ছে। কিন্তু ভুলটা কথায় হয়েছে তা ঠিক ধরতে পারবেন না।


জাতিগত ব্যুৎপত্তি

আনুপাতিক হারের যে বিশ্লেষণ করেছি উপরে তা মূলত সংস্কৃতি-ভিত্তিক। আমরা যদি ভ্রমণ করি বা আরও জাতিগত বৈচিত্র্যের সম্মুখীন হই তাহলে এটি আরও বাড়বে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আমরা এ পর্যন্ত যা দেখে আসি সেগুলোকে কেন্দ্র করেই চালিত হচ্ছে। এ কারণেই পাশ্চাত্য সমাজে এমন একটা কথা প্রচলিত আছে যে জাপানী নারীরা তাদের বয়সের তুলনায় ছোট দেখায়: আমরা এ পর্যন্ত যতোটুকু দেখেছি তাতে লক্ষণীয় যে পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পরেও তাদের নিতম্ব ইউরোপিয়ান নারীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট থাকে। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যমান সূত্র বাদ পড়ে যায়। আমরা যদি আমাদের ইউরোপিয়ান নারীদের সাধারণ কাঠামো (চওড়া নিতম্ব সহকারে) অনুসারে জাপানী নারীদের ছবি আঁকি তাহলে আমরা দ্বিধায় পড়ে যাবো তাঁকে এশিয়ান মনে না হয়ে ইউরোপিয়ান মনে হচ্ছে কেন।

পৃথিবী জুড়ে গড় দৈহিক ধরণ বিভিন্ন রকম হয়। আর আপনি যদি কোন একটি দলের সাথে যথেষ্ট সময় কাটান বা সচেতনভাবে বিভিন্ন মুভিতে তাদের খেয়াল করেন তাহলে তাদের দেহের ধরণ সম্পর্কে আপনারও একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে। এটি একটি বেশ বড়ো ধরণের গবেষণা যার জন্য আলাদাভাবে চার্ট তৈরি করেছি। তবে এখানে গড়পড়তাভাবে বিভিন্ন ধরণের কাঠামোর পার্থক্য বুঝিয়ে দিচ্ছি।

3-ethnotypes3-ethnotypes3-ethnotypes

কয়েক ডজন বিভিন্ন ধরণের জাতিগত ব্যুৎপত্তির মানুষ রয়েছে যাদের খুব ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে কঙ্কালের একদম মৌলিক স্তরের দিক থেকে আমরা সবচাইতে বড়ো তিনটি জাতিগত দলের পার্থক্য দেখতে পাই। আমি এই সেশনটি পোস্ট করছি সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে: মানব দেহের বৈচিত্র্য সম্পর্কে এবং এত বৈচিত্র্য থাকার পরেও আমরা যে মূলত সবাই একই সাধারণ কাঠামোর অন্তর্গত সে বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য।


চর্চার সময়

তার আগ পর্যন্ত এই থিওরিগুলো কাজে লাগাতে থাকুন। পরবর্তীতে মানুষের দৈহিক গঠনতন্ত্রের মৌলিক বিষয়াদি সংক্রান্ত সেশনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য এই থিওরিগুলো প্রয়োগ করার কিছু উপায় দেখানো হল:  

  • পর্যবেক্ষণ করুন, পর্যবেক্ষণ করুন, পর্যবেক্ষণ করুন! আপনার চারপাশের মানুষ দেখুন। নারী, পুরুষ, সবাইকে। কিন্তু এইবার তাদের দৈহিক কোন গঠনের তাদের ভিন্ন লাগছে তা খুঁজে বের করুন। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করুন। ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষদের অনলাইন বা সামনাসামনি দেখুন।
  • বিভিন্ন বয়সে আপনার শৈশবের ছবি খুঁজে বের করুন এবং সেই সময়ের মূল কাঠামো স্কেচ করে ফেলুন। ট্রেসিং করবেন না - এ পর্যন্ত যেভাবে করে এসেছি সেভাবেই ছাপচিত্র আর কঙ্কালের সমন্বয়ে এঁকে ফেলুন। বিষয়টা আরও মজার হবে যদি আপনি বিভিন্ন সময়ে কিন্তু একই ভঙ্গিতে তোলা ছবি যোগার করতে পারেন। তাহলে আপনি দেখতে পারবেন দৈহিক অনুপাত কিভাবে সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।
  • কোন রকম রেফারেন্স ছাড়াই বিভিন্ন অনুপাতের কাঠামোসম্পন্ন মানুষের দল আঁকুন। কোনটা কি বেখাপ্পা মনে হচ্ছে? যদি মনে হয়ে থাকে তাহলে কোন জায়গায় বেমানান তা কি ধরতে পেরেছেন?
ExerciseExerciseExercise
One subscription.
Unlimited Downloads.
Get unlimited downloads